ঢাকা ১১:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে জাতীয় কর্তৃপক্ষ ও ডেটাবেজ গঠন: উন্নত বিশ্বের আদলে নিরাপত্তা জোরদার

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বাংলাদেশ এক উন্নত বিশ্বের ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ মডেল অনুসরণ করে একটি যুগান্তকারী প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় দেশজুড়ে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এবং একটি কেন্দ্রীয় ক্র্যাশ ডেটাবেজ (দুর্ঘটনার তথ্য ভান্ডার) প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত এই পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের মোট ১৪০ কিলোমিটার অংশকে নিরাপদ করিডোরে উন্নীত করা হবে। এছাড়াও, প্রায় ৫০০ কিলোমিটার মহাসড়কে আন্তর্জাতিক মানের সড়ক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সংযোজন, প্রায় ৬০ হাজার চালককে বিশেষ নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ প্রদান এবং সড়ক নিরাপত্তায় ব্যাপক জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হবে। প্রকল্পের অংশ হিসেবে হাইওয়ে পুলিশের জন্য ৮০টি অত্যাধুনিক প্যাট্রোল মোটরসাইকেল, ৬০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স এবং ঢাকার জন্য ৪০টি মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স কেনা হবে। এর পাশাপাশি, সমন্বিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, উন্নত দুর্ঘটনা শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এবং দুর্ঘটনা-পরবর্তী জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সড়ক নিরাপত্তার জন্য এই ‘বাংলাদেশ রোড সেফটি প্রজেক্ট’ চারটি সংস্থার সম্মিলিত অংশগ্রহণে পরিচালিত হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পের বাজেট চার হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা নির্ধারিত হলেও বিশ্বব্যাংকের ঋণ কমে যাওয়ায় তা দুই হাজার ৮০০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। এই সংশোধিত বাজেটেও প্রকল্পের প্রায় ৯০ শতাংশ কেনাকাটার (প্রকিউরমেন্ট) কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৪.৪৩ শতাংশ। আশা করা হচ্ছে, আগামী দুই মাসের মধ্যেই প্রকল্পের ভৌত কাজগুলো দৃশ্যমান হবে।

প্রকল্পটি ২০২৩ সালের মে মাস থেকে ২০২৮ সালের জুন মাস পর্যন্ত চলবে। যদিও কিছু কাজ এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে মাঠ পর্যায়ে দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু করার ব্যাপারে আশাবাদী কর্তৃপক্ষ। এই প্রকল্পে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ), বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ), বাংলাদেশ পুলিশ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যুক্ত রয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের নেতৃত্বে এই সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। যদি এই মডেলটি সফল প্রমাণিত হয়, তবে ভবিষ্যতে তা সারা দেশের সকল মহাসড়কে অনুসরণ করা হবে।

উপপ্রকল্প পরিচালক আবুল বরকত মো. খুরশীদ আলম জানিয়েছেন, প্রকল্পের সবচেয়ে জটিল অংশ, অর্থাৎ কেনাকাটার (প্রকিউরমেন্ট) ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৪.৪৩ শতাংশ। এখন মূলত মাঠ পর্যায়ের কাজ (ফিজিক্যাল ওয়ার্ক) দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেমের সম্পর্কে ইতি টেনেছেন শর্বরী ও সানি!

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে জাতীয় কর্তৃপক্ষ ও ডেটাবেজ গঠন: উন্নত বিশ্বের আদলে নিরাপত্তা জোরদার

আপডেট সময় : ১০:০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বাংলাদেশ এক উন্নত বিশ্বের ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ মডেল অনুসরণ করে একটি যুগান্তকারী প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় দেশজুড়ে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এবং একটি কেন্দ্রীয় ক্র্যাশ ডেটাবেজ (দুর্ঘটনার তথ্য ভান্ডার) প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত এই পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের মোট ১৪০ কিলোমিটার অংশকে নিরাপদ করিডোরে উন্নীত করা হবে। এছাড়াও, প্রায় ৫০০ কিলোমিটার মহাসড়কে আন্তর্জাতিক মানের সড়ক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সংযোজন, প্রায় ৬০ হাজার চালককে বিশেষ নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ প্রদান এবং সড়ক নিরাপত্তায় ব্যাপক জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হবে। প্রকল্পের অংশ হিসেবে হাইওয়ে পুলিশের জন্য ৮০টি অত্যাধুনিক প্যাট্রোল মোটরসাইকেল, ৬০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স এবং ঢাকার জন্য ৪০টি মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স কেনা হবে। এর পাশাপাশি, সমন্বিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, উন্নত দুর্ঘটনা শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এবং দুর্ঘটনা-পরবর্তী জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সড়ক নিরাপত্তার জন্য এই ‘বাংলাদেশ রোড সেফটি প্রজেক্ট’ চারটি সংস্থার সম্মিলিত অংশগ্রহণে পরিচালিত হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পের বাজেট চার হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা নির্ধারিত হলেও বিশ্বব্যাংকের ঋণ কমে যাওয়ায় তা দুই হাজার ৮০০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। এই সংশোধিত বাজেটেও প্রকল্পের প্রায় ৯০ শতাংশ কেনাকাটার (প্রকিউরমেন্ট) কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৪.৪৩ শতাংশ। আশা করা হচ্ছে, আগামী দুই মাসের মধ্যেই প্রকল্পের ভৌত কাজগুলো দৃশ্যমান হবে।

প্রকল্পটি ২০২৩ সালের মে মাস থেকে ২০২৮ সালের জুন মাস পর্যন্ত চলবে। যদিও কিছু কাজ এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে মাঠ পর্যায়ে দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু করার ব্যাপারে আশাবাদী কর্তৃপক্ষ। এই প্রকল্পে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ), বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ), বাংলাদেশ পুলিশ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যুক্ত রয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের নেতৃত্বে এই সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। যদি এই মডেলটি সফল প্রমাণিত হয়, তবে ভবিষ্যতে তা সারা দেশের সকল মহাসড়কে অনুসরণ করা হবে।

উপপ্রকল্প পরিচালক আবুল বরকত মো. খুরশীদ আলম জানিয়েছেন, প্রকল্পের সবচেয়ে জটিল অংশ, অর্থাৎ কেনাকাটার (প্রকিউরমেন্ট) ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৪.৪৩ শতাংশ। এখন মূলত মাঠ পর্যায়ের কাজ (ফিজিক্যাল ওয়ার্ক) দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়া হবে।