কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বকবান্দা ও ঝাউবাড়ি সীমান্তে অবৈধভাবে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্তে শক্ত অবস্থান নেওয়ায় এবং তাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় অবশেষে বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয়।
বিজিবি ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার রাতে বিএসএফ বকবান্দা ও ঝাউবাড়ি সীমান্তে কয়েকজনকে পুশইনের চেষ্টা করে। খবর পেয়ে বিজিবি স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের প্রতিহত করে। বিজিবি ও গ্রামবাসীর শক্ত অবস্থানের কারণে বিএসএফ পিছু হটে। এরপর বিজিবি পুশইন ঠেকাতে এবং গ্রামবাসীকে সচেতন করতে সীমান্ত এলাকায় মাইকিং করে। সারা দিন সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি থমথমে ছিল। রবিবার সন্ধ্যায়ও বিএসএফ ওই দুই সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টা করলে বিজিবি ও গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে পড়ে ব্যর্থ হয়। তবে যেকোনো সময় সুযোগ পেলেই বিএসএফ পুশইন করতে পারে বলে ধারণা করছে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা।
বকবান্দা গ্রামের মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল বিএসএফ কয়েকজনকে পুশইন করার জন্য সীমান্তে নিয়ে এসেছিল। বিজিবি ও স্থানীয় জনগণ সতর্ক থাকায় পুশইন করতে পারেনি। আজ আবারও তারা চেষ্টা করেছে। আসলে সীমান্তে তারা একটা ঝামেলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।’ মশিউর রহমান নামের আরেকজন বলেন, ‘২০০১ সালে রৌমারীর বড়াইবাড়ী সীমান্তে বিডিআরের কাছে বিএসএফের শোচনীয় পরাজয়ের পর এই এলাকায় তারা বারবার উত্তেজনা তৈরি করে আসছে। গত বছরও ১৪ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। এখন আবারও শুরু করেছে। আমরা সীমান্তবাসী জীবন দেব, তবু একটা মানুষকে পুশইন করতে দেব না।’
বিজিবির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, বিএসএফ গতকাল বকবান্দা ও ঝাউবাড়ি সীমান্তে অবৈধভাবে পুশইনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। আজ আবারও তারা চেষ্টা করছে। সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও গ্রামবাসী পাহারা দিচ্ছে, যাতে কাউকে অনুপ্রবেশ করাতে না পারে। তবে সীমান্ত এলাকার রাস্তাঘাটের বেহাল দশার কারণে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারছি না।
রিপোর্টারের নাম 






















