ঢাকা ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামে পানির সংকট নিরসনে নতুন উদ্যোগ: ভাণ্ডালঝুড়ি শোধনাগারের পানি এবার নগরীতে

চট্টগ্রামের তীব্র পানির সংকট নিরসনে একটি নতুন এবং যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। দক্ষিণ চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে অবস্থিত ভাণ্ডালঝুড়ি পানি শোধনাগার প্রকল্পের অব্যবহৃত পানি এবার কর্ণফুলী টানেলের ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহার করে নগরীতে সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই শোধনাগারটির দৈনিক ছয় কোটি লিটার পানি উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে এর পূর্ণ ব্যবহার হচ্ছিল না, যা নগরীর পানি সরবরাহে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কোনো ধরনের সমীক্ষা ছাড়াই নির্মিত ভাণ্ডালঝুড়ি পানি শোধনাগার প্রকল্পটি চালু হওয়ার দুই বছরেও কাঙ্ক্ষিত গ্রাহক পায়নি। দৈনিক ছয় কোটি লিটার পানি উৎপাদনের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও, নগরীতে পানির তীব্র সংকট বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও, এই শোধনাগারটি মাত্র ২৫ লাখ লিটার পানি উৎপাদন করছিল। নদীর ওপারে শোধনাগার হওয়ায় এতদিন এর পানি নগরীতে আনা সম্ভব ছিল না, ফলে প্রকল্পের প্রায় ৯৫ শতাংশ সক্ষমতাই অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছিল। এই বিপুল বিনিয়োগের সুফল পেতে এবং নগরীর পানির চাহিদা মেটাতে ওয়াসা এখন কর্ণফুলী টানেলের ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহারের মাধ্যমে শোধনাগারের পানি নগরীতে আনার পরিকল্পনা করেছে।

তথ্যমতে, ২০১৬ সালে এক হাজার ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটির খরচ পরবর্তীতে বেড়ে এক হাজার ৯৯৪ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। এর উদ্দেশ্য ছিল দক্ষিণ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, পটিয়া, আনোয়ারা ও কর্ণফুলী এলাকার ১০ হাজার আবাসিক সংযোগের পাশাপাশি সিইউএফএল, কাফকো, কোরিয়ান ইপিজেড ও আনোয়ারা ইকোনমিক জোনসহ ১৩টি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পানির চাহিদা মেটানো। কিন্তু বাস্তবে, হাতে গোনা কয়েকজন আবাসিক গ্রাহক ও সিইউএফএল ছাড়া অন্য কেউ ওয়াসার পানি নিতে আগ্রহী হয়নি। আনোয়ারা ইকোনমিক জোনও এখনো চালু হয়নি। ফলে, উৎপাদন সক্ষমতার বড় অংশ অব্যবহৃত থাকায় ওয়াসার রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাড়ছিল এবং প্রকল্পের উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছিল না। নতুন এই উদ্যোগের ফলে প্রকল্পের সক্ষমতা ব্যবহার করা সম্ভব হবে এবং নগরীর একটি বড় অংশের মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেমের সম্পর্কে ইতি টেনেছেন শর্বরী ও সানি!

চট্টগ্রামে পানির সংকট নিরসনে নতুন উদ্যোগ: ভাণ্ডালঝুড়ি শোধনাগারের পানি এবার নগরীতে

আপডেট সময় : ১০:০২:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামের তীব্র পানির সংকট নিরসনে একটি নতুন এবং যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। দক্ষিণ চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে অবস্থিত ভাণ্ডালঝুড়ি পানি শোধনাগার প্রকল্পের অব্যবহৃত পানি এবার কর্ণফুলী টানেলের ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহার করে নগরীতে সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই শোধনাগারটির দৈনিক ছয় কোটি লিটার পানি উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে এর পূর্ণ ব্যবহার হচ্ছিল না, যা নগরীর পানি সরবরাহে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কোনো ধরনের সমীক্ষা ছাড়াই নির্মিত ভাণ্ডালঝুড়ি পানি শোধনাগার প্রকল্পটি চালু হওয়ার দুই বছরেও কাঙ্ক্ষিত গ্রাহক পায়নি। দৈনিক ছয় কোটি লিটার পানি উৎপাদনের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও, নগরীতে পানির তীব্র সংকট বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও, এই শোধনাগারটি মাত্র ২৫ লাখ লিটার পানি উৎপাদন করছিল। নদীর ওপারে শোধনাগার হওয়ায় এতদিন এর পানি নগরীতে আনা সম্ভব ছিল না, ফলে প্রকল্পের প্রায় ৯৫ শতাংশ সক্ষমতাই অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছিল। এই বিপুল বিনিয়োগের সুফল পেতে এবং নগরীর পানির চাহিদা মেটাতে ওয়াসা এখন কর্ণফুলী টানেলের ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহারের মাধ্যমে শোধনাগারের পানি নগরীতে আনার পরিকল্পনা করেছে।

তথ্যমতে, ২০১৬ সালে এক হাজার ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটির খরচ পরবর্তীতে বেড়ে এক হাজার ৯৯৪ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। এর উদ্দেশ্য ছিল দক্ষিণ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, পটিয়া, আনোয়ারা ও কর্ণফুলী এলাকার ১০ হাজার আবাসিক সংযোগের পাশাপাশি সিইউএফএল, কাফকো, কোরিয়ান ইপিজেড ও আনোয়ারা ইকোনমিক জোনসহ ১৩টি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পানির চাহিদা মেটানো। কিন্তু বাস্তবে, হাতে গোনা কয়েকজন আবাসিক গ্রাহক ও সিইউএফএল ছাড়া অন্য কেউ ওয়াসার পানি নিতে আগ্রহী হয়নি। আনোয়ারা ইকোনমিক জোনও এখনো চালু হয়নি। ফলে, উৎপাদন সক্ষমতার বড় অংশ অব্যবহৃত থাকায় ওয়াসার রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাড়ছিল এবং প্রকল্পের উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছিল না। নতুন এই উদ্যোগের ফলে প্রকল্পের সক্ষমতা ব্যবহার করা সম্ভব হবে এবং নগরীর একটি বড় অংশের মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।