ঢাকা ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

খুচরা বিক্রেতাদের ওপর বসছে করের খড়গ: অগ্রিম আয়কর আরোপের সম্ভাবনা

আগামী অর্থবছর থেকে দেশের খুচরা বিক্রেতাদের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে বার্ষিক লেনদেনের ওপর শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ হারে এই কর আদায় করা হতে পারে। এর অর্থ হলো, প্রতি এক হাজার টাকার লেনদেনে দুই টাকা কর হিসেবে পরিশোধ করতে হবে। এই প্রস্তাবটি আগামী বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই অগ্রিম আয়কর করদাতারা তাদের বার্ষিক আয়কর রিটার্নের সঙ্গে সমন্বয় করতে পারবেন। অর্থাৎ, অগ্রিম হিসেবে অতিরিক্ত কর কেটে নেওয়া হলে, রিটার্ন দাখিলের পর তা ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকবে। কর ব্যবস্থার পরিধি বাড়াতে আগামী বাজেটে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব থাকছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন (ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর) বাধ্যতামূলক করা। এছাড়াও, জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংকিং লেনদেন, পরিষেবা গ্রহণ, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তথ্য সেন্ট্রাল ডেটা ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য ভান্ডারের সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রস্তাবও রয়েছে। এতে তথ্যের আদান-প্রদান সহজ হবে এবং কর ফাঁকি প্রবণতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, মৌলিক কৃষি ও ভোগ্যপণ্য যেমন ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বীজসহ প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎসে করের হার কমিয়ে শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ করার প্রস্তাবও আসছে। বর্তমানে এসব খাতে পাঁচ শতাংশ, দুই শতাংশ ও এক শতাংশ হারে অগ্রিম কর প্রযোজ্য রয়েছে। এই কর হার কমানো হলে দ্রব্যমূল্য ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

দীর্ঘদিন ধরে উৎসে কর্তিত করকে বাধ্যতামূলক ন্যূনতম কর হিসেবে গণ্য করা হতো, যা থেকে অতিরিক্ত কর ফেরত পাওয়ার সুযোগ ছিল না। এতে ব্যবসায়ীরা পুঁজি সংকটে পড়তেন। আগামী অর্থবছরে উৎসে করকে অগ্রিম কর হিসেবে বিবেচনা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে করদাতারা অতিরিক্ত পরিশোধিত কর ফেরত পাবেন এবং দেশীয় ব্যবসায় একটি সহজ পরিবেশ নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেমের সম্পর্কে ইতি টেনেছেন শর্বরী ও সানি!

খুচরা বিক্রেতাদের ওপর বসছে করের খড়গ: অগ্রিম আয়কর আরোপের সম্ভাবনা

আপডেট সময় : ০৮:৫৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

আগামী অর্থবছর থেকে দেশের খুচরা বিক্রেতাদের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে বার্ষিক লেনদেনের ওপর শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ হারে এই কর আদায় করা হতে পারে। এর অর্থ হলো, প্রতি এক হাজার টাকার লেনদেনে দুই টাকা কর হিসেবে পরিশোধ করতে হবে। এই প্রস্তাবটি আগামী বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই অগ্রিম আয়কর করদাতারা তাদের বার্ষিক আয়কর রিটার্নের সঙ্গে সমন্বয় করতে পারবেন। অর্থাৎ, অগ্রিম হিসেবে অতিরিক্ত কর কেটে নেওয়া হলে, রিটার্ন দাখিলের পর তা ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকবে। কর ব্যবস্থার পরিধি বাড়াতে আগামী বাজেটে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব থাকছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন (ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর) বাধ্যতামূলক করা। এছাড়াও, জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংকিং লেনদেন, পরিষেবা গ্রহণ, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তথ্য সেন্ট্রাল ডেটা ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য ভান্ডারের সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রস্তাবও রয়েছে। এতে তথ্যের আদান-প্রদান সহজ হবে এবং কর ফাঁকি প্রবণতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, মৌলিক কৃষি ও ভোগ্যপণ্য যেমন ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বীজসহ প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎসে করের হার কমিয়ে শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ করার প্রস্তাবও আসছে। বর্তমানে এসব খাতে পাঁচ শতাংশ, দুই শতাংশ ও এক শতাংশ হারে অগ্রিম কর প্রযোজ্য রয়েছে। এই কর হার কমানো হলে দ্রব্যমূল্য ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

দীর্ঘদিন ধরে উৎসে কর্তিত করকে বাধ্যতামূলক ন্যূনতম কর হিসেবে গণ্য করা হতো, যা থেকে অতিরিক্ত কর ফেরত পাওয়ার সুযোগ ছিল না। এতে ব্যবসায়ীরা পুঁজি সংকটে পড়তেন। আগামী অর্থবছরে উৎসে করকে অগ্রিম কর হিসেবে বিবেচনা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে করদাতারা অতিরিক্ত পরিশোধিত কর ফেরত পাবেন এবং দেশীয় ব্যবসায় একটি সহজ পরিবেশ নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।