ঢাকা ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

‘বিদ্যুৎ ঘাটতি নেই, সাময়িক বিভ্রাটকে লোডশেডিং বলবেন না’: বিদ্যুৎমন্ত্রী

দেশে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই, তবে গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমে কিছু সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে। এসব বিভ্রাটকে লোডশেডিং বলা ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। রোববার জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য আবুল কালামের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছায়। এ সময় প্রাথমিক জ্বালানির ঘাটতি, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, রক্ষণাবেক্ষণের কাজ এবং ঝড়-বৃষ্টির কারণে মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়। এর ফলে চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ সবসময় সম্ভব হয় না।

যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ গোলাম রসুল গ্রামীণ অঞ্চলে পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টা লোডশেডিং এবং নওয়াপাড়া শিল্পাঞ্চলে বিদ্যুৎ সংকটের কথা তুললে প্রতিমন্ত্রী তার জবাবে বলেন, বাংলাদেশে এখন কোনো বিদ্যুতের ঘাটতি নেই। ঝড়-বৃষ্টি, গাছ পড়ে লাইন ছিঁড়ে যাওয়া কিংবা সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনের ত্রুটির কারণে সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট হতে পারে, কিন্তু এটিকে লোডশেডিং বলা ঠিক নয়।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে সরকার জীবাশ্ম জ্বালানির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমানে ৭ হাজার ৯২৮ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ৩২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। এছাড়াও ৬৬৫ মেগাওয়াট সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ১৫টি নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দরপত্র প্রক্রিয়া চলমান আছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের শতভাগ জনগোষ্ঠীকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। তাপমাত্রা অত্যাধিক বাড়ার ফলে বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও সরকার পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী এই চাহিদা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। ২০২৬ সালের প্রক্ষেপিত বিদ্যুৎ চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেমের সম্পর্কে ইতি টেনেছেন শর্বরী ও সানি!

‘বিদ্যুৎ ঘাটতি নেই, সাময়িক বিভ্রাটকে লোডশেডিং বলবেন না’: বিদ্যুৎমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৯:২৬:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

দেশে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই, তবে গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমে কিছু সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে। এসব বিভ্রাটকে লোডশেডিং বলা ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। রোববার জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য আবুল কালামের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছায়। এ সময় প্রাথমিক জ্বালানির ঘাটতি, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, রক্ষণাবেক্ষণের কাজ এবং ঝড়-বৃষ্টির কারণে মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়। এর ফলে চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ সবসময় সম্ভব হয় না।

যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ গোলাম রসুল গ্রামীণ অঞ্চলে পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টা লোডশেডিং এবং নওয়াপাড়া শিল্পাঞ্চলে বিদ্যুৎ সংকটের কথা তুললে প্রতিমন্ত্রী তার জবাবে বলেন, বাংলাদেশে এখন কোনো বিদ্যুতের ঘাটতি নেই। ঝড়-বৃষ্টি, গাছ পড়ে লাইন ছিঁড়ে যাওয়া কিংবা সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনের ত্রুটির কারণে সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট হতে পারে, কিন্তু এটিকে লোডশেডিং বলা ঠিক নয়।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে সরকার জীবাশ্ম জ্বালানির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমানে ৭ হাজার ৯২৮ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ৩২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। এছাড়াও ৬৬৫ মেগাওয়াট সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ১৫টি নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দরপত্র প্রক্রিয়া চলমান আছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের শতভাগ জনগোষ্ঠীকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। তাপমাত্রা অত্যাধিক বাড়ার ফলে বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও সরকার পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী এই চাহিদা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। ২০২৬ সালের প্রক্ষেপিত বিদ্যুৎ চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।