মানুষকে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার কথা যে হাসপাতালের, সেই হাসপাতাল আজ নিজেই নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চলে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানসিলা জেবরিন। রোববার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি শেরপুর সদর হাসপাতালের করুণ চিত্র তুলে ধরেন।
সানসিলা জেবরিন বলেন, শেরপুরের ১৭ লাখ মানুষের একমাত্র ভরসা এই হাসপাতালের বাস্তব চিত্র অত্যন্ত ভয়াবহ। তিনি জানান, শেরপুর সদরের চরাঞ্চলের অধিকাংশ রাস্তা কাঁচা হওয়ায় দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে যখন একজন অসুস্থ, মুমূর্ষু রোগী বা গর্ভবতী মা জীবন বাঁচানোর শেষ আশায় হাসপাতালে আসেন, তখন হাসপাতালের বেড না পেয়ে মেঝে, বারান্দা বা করিডোরে কাতরাতে থাকেন। এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, হাসপাতালে সিনিয়র কনসালট্যান্টের ১০টি পদই শূন্য, অথচ প্রতিদিন ৭০০ রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক, নার্স, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীরা। অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক নেই এবং নয়তলা ভবন থাকলেও রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত লিফট নেই।
করোনাকালীন সময়ে শেরপুর সদর হাসপাতালে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আইসিইউ ও সিসিইউ ইউনিট নির্মাণ করা হলেও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে বর্তমানে তা অকেজো হয়ে পড়ে আছে। দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ থাকায় ইউনিটটি এখন মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে, এমনকি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা যন্ত্রপাতিও চুরি হয়ে যাচ্ছে। হাসপাতালের একটি অংশ দালাল, চোর, ছিনতাইকারী ও মাদকসেবীদের অপরাধের আখড়ায় পরিণত হয়েছে এবং পাশেই ময়লার ডাস্টবিনের দুর্গন্ধ সুস্থ মানুষকেও অসুস্থ করে তুলছে বলে তিনি জানান।
সংসদ সদস্য সানসিলা জেবরিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২০১৮ সালের পর থেকে এই সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো স্টাফ বা কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়নি। গত আট বছরে ছয়বারের মতো নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ দেওয়া হলেও কোনো এক অদৃশ্য শক্তির কারণে পরীক্ষাটি বারবার পিছিয়ে যায়।
রিপোর্টারের নাম 






















