বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার সুযোগ নেই বলে জোর দাবি জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। তাদের মতে, এই বন্দর ও মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি সরকারের জন্য একটি অগ্নিপরীক্ষা। অবিলম্বে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি তুলেছেন তারা, কারণ এসব চুক্তির আড়ালে আমেরিকা আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
রোববার দুপুরে রাজধানীতে ‘দেশ বাঁচাও বন্দর বাঁচাও আন্দোলন’ আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় নেতারা এসব মন্তব্য করেন। সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ এহসানুল হুদার সভাপতিত্বে মোমিনুল আমিনের পরিচালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম। এছাড়াও বক্তব্য দেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য সৈয়দ হাসান মারুফ রুমি ও সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন এবং বিএনপি নেতা রাশেদ খানসহ অনেকে।
স্বাগত বক্তব্যে শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের সবচেয়ে আধুনিক, আয়বর্ধক এবং গতিশীল একটি বন্দর। এটি স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো অত্যন্ত যোগ্যতার সাথে এটি পরিচালনা করছে। এই মুহূর্তে এটি কারো কাছে ইজারা দেওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি আরও বলেন, বিদেশিদের হাতে বন্দর তুলে দিলে দেশের সার্বভৌমত্ব, স্পর্শকাতর স্থাপনার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা দেশ থেকে চলে যাবে। তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দেশীয় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা যাচাই করে তাদের দ্বারাই বন্দর পরিচালনার আহ্বান জানান।
সাইফুল হক তার বক্তব্যে প্রশ্ন তোলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও আমরা চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনার মতো সক্ষমতা অর্জন করতে পারিনি, যা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। বক্তারা এ বিষয়ে সরকারের দৃঢ় ও স্পষ্ট অবস্থান দাবি করেন এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সোচ্চার থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
রিপোর্টারের নাম 






















