সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০ জন সংসদ সদস্যের শপথ গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ অধিবেশনে তাদের উপস্থিতি এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রবিবার এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাঁদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, নারী সদস্যদের আগমনে জাতীয় সংসদ আজ পূর্ণতা লাভ করেছে এবং সংসদকে আরও ‘কালারফুল’ দেখাচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনের বৈঠকে শোক প্রস্তাব গ্রহণ, এক মিনিট নীরবতা পালন এবং মোনাজাত শেষে স্পিকার তাঁর এই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আজকে তো সংসদ অনেক কালারফুল দেখা যাচ্ছে। সংসদ আজ নারী সদস্যদের আগমনের ফলে পূর্ণতা পেয়েছে। তাদেরকেও আমি অভিনন্দন জানাই।”
প্রথম অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের উপস্থিতি ও সংসদে তাঁদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বও সরগরম ছিল। শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্দেশে সম্পূরক প্রশ্ন করার সুযোগ পেয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য রেহানা আক্তার রানু সংসদে নারী সদস্যদের আরও বেশি কথা বলার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, “ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক, এই সংসদে আজ বসন্ত।”
রেহানা আক্তার রানু আরও বলেন, “প্রত্যেক রাজনীতিকের জীবনের স্বপ্ন থাকে এই মহান সংসদে আসবার। আমরা যে ৫০ জন এই সংসদে এসেছি, আপনি যদি আমাদের কথা বলার সুযোগ দেন, তাহলে আমরা ৫০টি অলংকার নয়, ৫০টি নারী জাতির অহংকার হিসেবে নিজেদের পরিচিত করব।” নিজের রাজনৈতিক জীবনের ৩০ বছরের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমি আপনার জনপ্রিয়তা দেখেছি। আপনি সাতবার এমপি হয়েছেন। আমিও আপনার মতো সাতবার এমপি হতে চাই। এই কারণে এই সংসদে কথা বলার সুযোগ চাই।”
স্পিকার কার্যপ্রণালী বিধি অনুসরণ করে প্রশ্ন করার অনুরোধ জানালে রেহানা আক্তার রানু বলেন, “মাননীয় স্পিকার আপনাকে আমরা কড়া হেডমাস্টার হিসেবে দেখতে চাই না। নারীবান্ধব স্পিকার হিসেবে দেখতে চাই।” তাঁর এই মন্তব্যে অনেক সংসদ সদস্যই মৃদু হাসেন। স্পিকার তাঁর সাতবার এমপি হওয়ার আকাঙ্ক্ষার জবাবে বলেন, “সাতবার বক্তৃতা দিয়ে তো সাতবার এমপি হওয়া যায় না। আপনারা এলাকায় মানুষের সঙ্গে মিশে কাজ করেন। আপনারা সাতবার কেন, ২৭ বারও হতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।”
রিপোর্টারের নাম 






















