ইসলামী ব্যাংককে কেন্দ্র করে চলমান ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে রাজধানীতে মানববন্ধন করেছে সচেতন ওলামা গ্রাহক ফোরাম। রবিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে দেশের বরেণ্য ওলামায়ে কেরাম, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ এবং ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকরা অংশগ্রহণ করেন।
সম্মিলিত ওলামা মাশায়েখ পরিষদের মহাসচিব এবং তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. মুফতি খলিলুর রহমান মাদানীর সভাপতিত্বে ও অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন এবং ড. মুহাদ্দিস মাহমুদুল হাসানের যৌথ পরিচালনায় মানববন্ধনে লেখক ও ইসলামী আলোচক মুফতি আলী হাসান ওসামা বলেন, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় আসা বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি সেক্টরে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে লিপ্ত রয়েছে। জনগণ যদি রাস্তায় নামে, তবে সরকারের সকল প্রকার ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকারের পালানোর সুযোগ থাকবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ আছে, যেখানে পূর্ববর্তী সরকারগুলো সহযোগিতায় নিরাপদে পালিয়ে যেতে পেরেছে।’
ব্যাংকিং খাতে সরকারের হস্তক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করতে সরকার এমন একজনকে গভর্নর নিয়োগ করেছে, যার অর্থনীতিতে ন্যূনতম জ্ঞান নেই। একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী কখনো ব্যাংকিং সেক্টরে নেতৃত্ব দিতে পারে না। অযোগ্য, অদক্ষ একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ীকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর করার পর তিনি আরেক অযোগ্য, অথর্ব, দুর্নীতিবাজ, ব্যাংক লুটেরা খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের মতো পবিত্র স্থানে চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক যাদের উদ্যোগে, যাদের প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তাদের নেতৃত্বে পরিচালিত হলে দেশের অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের দোসর এবং এস আলম গ্রুপের কর্মীদের দ্বারা পরিচালিত হলে ইসলামী ব্যাংক অচিরেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।’ তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংককে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে ব্যাংকের একজন সাধারণ গ্রাহকও চুপ করে বসে থাকবে না। ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকেরা যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দিতে সক্ষম।’
মুফতি মহি উদ্দিন বলেন, ‘৫ আগস্টের পর যেহেতু বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলম পালিয়ে গেছেন, তাই নিঃসন্দেহে বলা যায় তিনি ব্যাংক লুটের সাথে জড়িত ছিলেন। একজন ব্যাংক লুটেরার হাতে ইসলামী ব্যাংক কখনো নিরাপদ থাকতে পারে না।’
রিপোর্টারের নাম 





















