ঢাকা ০৬:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস: তরুণ প্রজন্মের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা

ভারতের মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ১৯ বছর বয়সী মনিশ কুমারের মতো লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তরুণ-তরুণী ক্ষোভে ফুঁসছেন। সম্প্রতি নরেন্দ্র মোদি সরকার পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয়, কারণ পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে গিয়েছিল। কোটা শহরের একটি কোচিং সেন্টারে দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নেওয়া মনিশ কুমার বলেন, ‘আমার স্বপ্ন এত কাছে চলে এসেছিল। কোটি কোটি শিক্ষার্থীর এই উচ্চপর্যায়ের পরীক্ষায় এমনটা কীভাবে ঘটতে পারে?’

ভারতের অন্যতম বড় এই মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষায় এবার ১ লাখ ৩০ হাজার আসনের বিপরীতে ২২ লাখেরও বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। এই প্রশ্ন ফাঁসের কেলেঙ্কারি ভারতের তরুণদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে, যারা ইতোমধ্যেই উচ্চ বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

এই অসন্তোষের জেরে অনলাইনে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণামূলক ক্যাম্পেইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এর প্রতিষ্ঠাতা বস্টনপ্রবাসী অভিজিৎ দিপকের ডাকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে গণবিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। দিপক বলেন, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার এই বিপর্যয় এবং একের পর এক প্রশ্ন ফাঁস ও মূল্যায়নগত ভুল সরকারের চরম অক্ষমতারই প্রমাণ।

ভারতের ১৪০ কোটি জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই ৩০ বছরের কম বয়সী, যা বিশ্বের বৃহত্তম তরুণ জনগোষ্ঠী। বেঙ্গালুরুর আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটিতে ১৫-২৫ বছর বয়সী গ্র্যাজুয়েটদের প্রায় ৪০ শতাংশ এবং ২৫-২৯ বছর বয়সীদের ২০ শতাংশই বেকার। উচ্চ বেকারত্বের কারণে অনেক তরুণ ও তাদের পরিবার সরকারি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাকেই অর্থনৈতিক মুক্তি ও নিরাপত্তার একমাত্র উপায় হিসেবে দেখেন। এই প্রেক্ষাপটেই প্রতি বছর ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ২ লাখ শিক্ষার্থী রাজস্থানের কোটা শহরে পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য আসেন।

পরীক্ষা বাতিলের পর বিহারের বাসিন্দা মনিশ কুমার পুনরায় ২১ জুনের নতুন পরীক্ষায় অংশ নিতে ৩৬ ঘণ্টার ট্রেন যাত্রা করে আবার কোটায় ফিরে এসেছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করতে তিনিও ‘ককরোচ জনতা পার্টি’তে যোগ দিয়েছেন। নতুন গঠিত এই রাজনৈতিক ব্যঙ্গাত্মক দল ‘সিজেপি’র তীব্র সমালোচনা করেছেন মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সদস্যরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেমের সম্পর্কে ইতি টেনেছেন শর্বরী ও সানি!

ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস: তরুণ প্রজন্মের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা

আপডেট সময় : ০১:২৮:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

ভারতের মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ১৯ বছর বয়সী মনিশ কুমারের মতো লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তরুণ-তরুণী ক্ষোভে ফুঁসছেন। সম্প্রতি নরেন্দ্র মোদি সরকার পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয়, কারণ পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে গিয়েছিল। কোটা শহরের একটি কোচিং সেন্টারে দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নেওয়া মনিশ কুমার বলেন, ‘আমার স্বপ্ন এত কাছে চলে এসেছিল। কোটি কোটি শিক্ষার্থীর এই উচ্চপর্যায়ের পরীক্ষায় এমনটা কীভাবে ঘটতে পারে?’

ভারতের অন্যতম বড় এই মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষায় এবার ১ লাখ ৩০ হাজার আসনের বিপরীতে ২২ লাখেরও বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। এই প্রশ্ন ফাঁসের কেলেঙ্কারি ভারতের তরুণদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে, যারা ইতোমধ্যেই উচ্চ বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

এই অসন্তোষের জেরে অনলাইনে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণামূলক ক্যাম্পেইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এর প্রতিষ্ঠাতা বস্টনপ্রবাসী অভিজিৎ দিপকের ডাকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে গণবিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। দিপক বলেন, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার এই বিপর্যয় এবং একের পর এক প্রশ্ন ফাঁস ও মূল্যায়নগত ভুল সরকারের চরম অক্ষমতারই প্রমাণ।

ভারতের ১৪০ কোটি জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই ৩০ বছরের কম বয়সী, যা বিশ্বের বৃহত্তম তরুণ জনগোষ্ঠী। বেঙ্গালুরুর আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটিতে ১৫-২৫ বছর বয়সী গ্র্যাজুয়েটদের প্রায় ৪০ শতাংশ এবং ২৫-২৯ বছর বয়সীদের ২০ শতাংশই বেকার। উচ্চ বেকারত্বের কারণে অনেক তরুণ ও তাদের পরিবার সরকারি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাকেই অর্থনৈতিক মুক্তি ও নিরাপত্তার একমাত্র উপায় হিসেবে দেখেন। এই প্রেক্ষাপটেই প্রতি বছর ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ২ লাখ শিক্ষার্থী রাজস্থানের কোটা শহরে পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য আসেন।

পরীক্ষা বাতিলের পর বিহারের বাসিন্দা মনিশ কুমার পুনরায় ২১ জুনের নতুন পরীক্ষায় অংশ নিতে ৩৬ ঘণ্টার ট্রেন যাত্রা করে আবার কোটায় ফিরে এসেছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করতে তিনিও ‘ককরোচ জনতা পার্টি’তে যোগ দিয়েছেন। নতুন গঠিত এই রাজনৈতিক ব্যঙ্গাত্মক দল ‘সিজেপি’র তীব্র সমালোচনা করেছেন মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সদস্যরা।