ঢাকা ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

শিক্ষা ও গবেষণার মান: পাবলিক বনাম প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক ও বাস্তব চিত্র

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক দীর্ঘদিনের এবং এটি প্রায়শই আবেগ ও সামাজিক ধারণার দ্বারা প্রভাবিত হয়। প্রতি বছর ভর্তি পরীক্ষার সময় এই বিষয়টি শিক্ষার্থীদের, অভিভাবকদের এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তবে, বর্তমান বাস্তবতায় উচ্চশিক্ষাকে কেবল ‘পাবলিক’ বা ‘প্রাইভেট’ মালিকানার ভিত্তিতে বিচার করা ক্রমেই একপেশে ও অযৌক্তিক হয়ে উঠছে। বাংলাদেশে বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ১৬০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যা উচ্চশিক্ষা খাতের অভূতপূর্ব সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দেয়।

এই বিশাল পরিবর্তনের পর মূল প্রশ্নটি আর ‘পাবলিক বনাম প্রাইভেট’ দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ নেই। এখন গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হলো—‘কোন বিশ্ববিদ্যালয় কতটা মানসম্মত শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারছে।’ উচ্চশিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো জ্ঞান সৃষ্টি, মানসম্মত গবেষণা, আন্তর্জাতিকীকরণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা। তাই যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যায়ন হওয়া উচিত তার গবেষণা উৎপাদন, শিক্ষার গুণগত মান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, আন্তর্জাতিক সংযোগ এবং কর্মসংস্থান সক্ষমতার ভিত্তিতে, কেবল তার প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়।

ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের গবেষণার ক্ষেত্রে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোই প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো গবেষণা প্রকাশনা ও আন্তর্জাতিক উদ্ধৃতির (citation) ক্ষেত্রে এখনো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাংকিংয়ের অন্যতম প্রধান সূচক যেহেতু গবেষণা এবং এর বৈশ্বিক প্রভাব, তাই এই প্রতিষ্ঠানগুলো আজও দেশের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবে গত এক দশকে এই চিত্রে একটি বড় ধরনের গুণগত পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশের কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার ক্ষেত্রে অভাবনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি এবং ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো গবেষণার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, যা দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের সামগ্রিক চিত্রকে আরও সমৃদ্ধ করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেমের সম্পর্কে ইতি টেনেছেন শর্বরী ও সানি!

শিক্ষা ও গবেষণার মান: পাবলিক বনাম প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক ও বাস্তব চিত্র

আপডেট সময় : ০১:২৪:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক দীর্ঘদিনের এবং এটি প্রায়শই আবেগ ও সামাজিক ধারণার দ্বারা প্রভাবিত হয়। প্রতি বছর ভর্তি পরীক্ষার সময় এই বিষয়টি শিক্ষার্থীদের, অভিভাবকদের এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তবে, বর্তমান বাস্তবতায় উচ্চশিক্ষাকে কেবল ‘পাবলিক’ বা ‘প্রাইভেট’ মালিকানার ভিত্তিতে বিচার করা ক্রমেই একপেশে ও অযৌক্তিক হয়ে উঠছে। বাংলাদেশে বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ১৬০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যা উচ্চশিক্ষা খাতের অভূতপূর্ব সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দেয়।

এই বিশাল পরিবর্তনের পর মূল প্রশ্নটি আর ‘পাবলিক বনাম প্রাইভেট’ দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ নেই। এখন গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হলো—‘কোন বিশ্ববিদ্যালয় কতটা মানসম্মত শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারছে।’ উচ্চশিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো জ্ঞান সৃষ্টি, মানসম্মত গবেষণা, আন্তর্জাতিকীকরণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা। তাই যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যায়ন হওয়া উচিত তার গবেষণা উৎপাদন, শিক্ষার গুণগত মান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, আন্তর্জাতিক সংযোগ এবং কর্মসংস্থান সক্ষমতার ভিত্তিতে, কেবল তার প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়।

ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের গবেষণার ক্ষেত্রে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোই প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো গবেষণা প্রকাশনা ও আন্তর্জাতিক উদ্ধৃতির (citation) ক্ষেত্রে এখনো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাংকিংয়ের অন্যতম প্রধান সূচক যেহেতু গবেষণা এবং এর বৈশ্বিক প্রভাব, তাই এই প্রতিষ্ঠানগুলো আজও দেশের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবে গত এক দশকে এই চিত্রে একটি বড় ধরনের গুণগত পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশের কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার ক্ষেত্রে অভাবনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি এবং ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো গবেষণার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, যা দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের সামগ্রিক চিত্রকে আরও সমৃদ্ধ করছে।