শিক্ষকতা একটি মহান পেশা যা সমাজ, সংস্কৃতি এবং সভ্যতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অতীতে এই পেশার প্রতি মানুষের অগাধ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ছিল, যেখানে অর্থ নয়, বরং জ্ঞান বিতরণই ছিল মূল লক্ষ্য। স্বয়ং মহানবী (সা.) নিজেকে শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন, যা এই পেশার মর্যাদাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। অথচ বর্তমানে মেধাবীরা এই পেশার প্রতি অনীহা দেখাচ্ছে, যা সমাজের জন্য একটি উদ্বেগজনক লক্ষণ।
সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রজ্ঞাপন থেকে জানা যায়, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে কর্মরত একজন অধ্যাপক, যিনি ২৭তম বিসিএসের মাধ্যমে নবম গ্রেডে যোগদান করেছিলেন, তিনি শুল্ক ও আবগারির সহকারী কমিশনার পদে ফিরে যেতে আগ্রহী। এই ঘটনা প্রশ্ন তোলে, কেন এমন ইউটার্ন? শিক্ষকরা কি সমাজে তাদের প্রাপ্য সম্মান ও মূল্যায়ন পাচ্ছেন না?
অন্যান্য ক্যাডারের তুলনায় শিক্ষা ক্যাডারে সুযোগ-সুবিধা, ক্ষমতা এবং সামাজিক প্রভাবের অভাব শিক্ষকদের হতাশ করছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, পদোন্নতিতে বিলম্ব এবং অন্যান্য ক্যাডারের তুলনায় সুযোগ-সুবিধার অভাব শিক্ষকদের মধ্যে হীনম্মন্যতা তৈরি করছে। প্রশাসন ও পুলিশ ক্যাডারের প্রতি সরকারের বিশেষ মনোযোগ এবং তাদের সুযোগ-সুবিধা শিক্ষকদের মধ্যে অপ্রাপ্তি ও বঞ্চনার অনুভূতি জাগাচ্ছে।
শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং একটি কাঙ্ক্ষিত আগামী বিনির্মাণে শিক্ষকদের যথাযথ মূল্যায়ন অপরিহার্য। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে, যেখানে মেধা ও যোগ্যতাকে সম্মান জানানো হচ্ছে না, সেখানে এই মহান পেশার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এই পরিস্থিতি কেবল ব্যক্তির ব্যক্তিগত হতাশা নয়, বরং এটি বৃহত্তর সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অবহেলারই প্রতিফলন, যা জাতির ভবিষ্যতের জন্য শুভ ইঙ্গিত বহন করে না।
রিপোর্টারের নাম 






















