ঢাকা ০৭:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে পরিত্যক্ত ভবনে ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহরের বাজার চাঁন্দিনাতে ১৩ বছর আগে প্রশাসন কর্তৃক পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন দুই শতাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিনেও ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। যেকোনো সময় ভবনটি ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, ২০১০ সালের ২৫ অক্টোবর চাল ব্যবসায়ী অজয় কুমার এই ভবনে দোকানে বসে থাকা অবস্থায় ছাদের একটি অংশ ধসে তার মাথার ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় এবং আরও দুইজন আহত হন। ভবনের ছাদের পাশ দিয়ে রেলিং করায় বৃষ্টির পানি জমে থাকত, যা ভবনটিকে দ্রুত নষ্ট হওয়ার কারণ হয়েছে। বর্তমানে এখানে দুই শতাধিক দোকান রয়েছে, যার বেশিরভাগই সবজি ও মুদি পণ্যের। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের এই ব্যবসা করেই সংসার চলে, কিন্তু তারা বর্তমানে জীবনের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

কালীগঞ্জ শহরের প্রধান কাঁচা বাজারের এই ভবনটি ১৯৮৭-৮৮ অর্থবছরে নির্মিত হয়েছিল। বয়সের ভারে ভবনটি এখন জরাজীর্ণ। হাট-চাঁদনী নামে পরিচিত এই স্থানে দুই শতাধিক দোকান রয়েছে। এর মধ্যে একটিতে আটা-ময়দা এবং অন্যটিতে মাছ ও মাংস বিক্রি হয়। তৎকালীন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফি উদ্দিনের প্রচেষ্টায় প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এই চাঁন্দিনা নির্মিত হয়েছিল। বর্তমানে বাঁশ দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে ভবনটি, যাতে পলেস্তারা ভেঙে না পড়ে। একসময় ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে সাইনবোর্ডও টাঙানো হয়েছিল, তবে সেটিও এখন নষ্ট হয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী জানান, ২০১৩ সালের ২ মে একটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। ব্যবসায়ীদের ওই জায়গা থেকে সরে যেতে বলা হলেও তারা যাননি। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় তারা সেখানে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও কোনো সমাধান হয়নি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেমের সম্পর্কে ইতি টেনেছেন শর্বরী ও সানি!

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে পরিত্যক্ত ভবনে ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা

আপডেট সময় : ০১:২৩:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহরের বাজার চাঁন্দিনাতে ১৩ বছর আগে প্রশাসন কর্তৃক পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন দুই শতাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিনেও ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। যেকোনো সময় ভবনটি ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, ২০১০ সালের ২৫ অক্টোবর চাল ব্যবসায়ী অজয় কুমার এই ভবনে দোকানে বসে থাকা অবস্থায় ছাদের একটি অংশ ধসে তার মাথার ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় এবং আরও দুইজন আহত হন। ভবনের ছাদের পাশ দিয়ে রেলিং করায় বৃষ্টির পানি জমে থাকত, যা ভবনটিকে দ্রুত নষ্ট হওয়ার কারণ হয়েছে। বর্তমানে এখানে দুই শতাধিক দোকান রয়েছে, যার বেশিরভাগই সবজি ও মুদি পণ্যের। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের এই ব্যবসা করেই সংসার চলে, কিন্তু তারা বর্তমানে জীবনের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

কালীগঞ্জ শহরের প্রধান কাঁচা বাজারের এই ভবনটি ১৯৮৭-৮৮ অর্থবছরে নির্মিত হয়েছিল। বয়সের ভারে ভবনটি এখন জরাজীর্ণ। হাট-চাঁদনী নামে পরিচিত এই স্থানে দুই শতাধিক দোকান রয়েছে। এর মধ্যে একটিতে আটা-ময়দা এবং অন্যটিতে মাছ ও মাংস বিক্রি হয়। তৎকালীন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফি উদ্দিনের প্রচেষ্টায় প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এই চাঁন্দিনা নির্মিত হয়েছিল। বর্তমানে বাঁশ দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে ভবনটি, যাতে পলেস্তারা ভেঙে না পড়ে। একসময় ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে সাইনবোর্ডও টাঙানো হয়েছিল, তবে সেটিও এখন নষ্ট হয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী জানান, ২০১৩ সালের ২ মে একটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। ব্যবসায়ীদের ওই জায়গা থেকে সরে যেতে বলা হলেও তারা যাননি। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় তারা সেখানে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও কোনো সমাধান হয়নি।