রাজধানীর পল্লবীতে ঘটে যাওয়া শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার মামলার রায় আজ (সোমবার) ঘোষণা করা হবে। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত বেলা ১১টায় আসামিদের উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করবেন। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া মাত্র ২০ দিনের মাথায় সম্পন্ন হওয়ায় বিচার বিভাগে এক নতুন নজির সৃষ্টি হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে ১৯ মে ঘটনার পর ২৪ মে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর ১ জুন মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয় এবং মাত্র চার কার্যদিবসে বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়। পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে আজ রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে, যা বিচার বিভাগের দ্রুততা ও দক্ষতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ১৯ মে সকালে পল্লবীর পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা নিখোঁজ হয়ে যায়। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর একই ভবনের ভাড়াটিয়া প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাটের দরজার বাইরে রামিসার জুতো পাওয়া যায়। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং বাথরুমের বালতি থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, রামিসাকে ফুঁসলিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে সোহেল তাকে ধর্ষণ ও হত্যা করে এবং আলামত নষ্ট করার জন্য মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করে। ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল থেকে আসামি স্বপ্নাকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ থেকে আসামি সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।
২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় প্রধান আসামি সোহেল রানা, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার এবং অজ্ঞাত এক-দুজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। আদালতে হাজির করা হলে আসামি সোহেল রানা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় এবং পরে তাকে ও স্বপ্নাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক ওহিদুজ্জামান মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে অভিযুক্ত করে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন।
রিপোর্টারের নাম 




















