যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ জর্জিয়ায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক তরুণ পাইলট নিহত হয়েছেন। বিয়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই তিনি এই দুর্ঘটনার শিকার হন। কাউন্টি কর্নার ডেভ এবং হেলিকপ্টার পাইলটের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) এই দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
২৫ বছর বয়সী ডেভ ফিজি ছিলেন ডেলটা এয়ারলাইনসের একজন পাইলট। তার আদি নিবাস ভারতের কেরালায়। বিয়ের পর তিনি তার স্ত্রী জেসনিকে নিয়ে মধুচন্দ্রিমার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। তখনই তাদের বহনকারী রবিনসন আর৬৬ হেলিকপ্টারটি ডসনভিলের বিয়ের অনুষ্ঠানস্থলের কাছেই বিধ্বস্ত হয়। এই দুর্ঘটনায় জেসনি, যিনি পেশায় একজন নার্স, সৌভাগ্যবশত বেঁচে গেছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ডেভের ছোটবেলা থেকেই পাইলট হওয়ার স্বপ্ন ছিল। প্রায় এক দশক আগে নিউ টেস্টামেন্ট চার্চে তার জেসনির সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল এবং গত শুক্রবার তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে নবদম্পতি জর্জিয়ার দ্বিতীয় ব্যস্ততম বিমানবন্দর ডেকাব-পিচট্রি বিমানবন্দরের উদ্দেশে একটি রবিনসন আর৬৬ হেলিকপ্টারে চড়েন। ডাউনটাউন আটলান্টার একটি হোটেলে রাত কাটানোর আগে এই ফ্লাইটটি তাদের জন্য একটি বিশেষ বিদায়ি আয়োজন ছিল।
তবে, হেলিকপ্টারটি গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি। বিয়ের অনুষ্ঠানস্থল থেকে খুব বেশি দূরে নয়, ডসন কাউন্টির মাউন্ট ভার্নন ড্রাইভের কাছে একটি প্রত্যন্ত বনাঞ্চলে এটি বিধ্বস্ত হয়। উড্ডয়নের আগে হালকা বৃষ্টি এবং কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কম থাকায় ডেভ কিছুটা সময় অপেক্ষা করেছিলেন। জেসনি পরে পরিবারকে জানান যে, উড্ডয়নের পরপরই কুয়াশার কারণে পরিষ্কার দেখার জন্য পাইলট আরও উঁচুতে ওঠার কথা বলেছিলেন। কিন্তু উড্ডয়নের মাত্র চার মিনিটের মাথায় এটি বিধ্বস্ত হয়।
দুর্ঘটনার পর ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বিয়ের পোশাকেই জেসনির জ্ঞান ফেরে। ডেভের নিথর দেহ দেখে তিনি বুঝতে পারেন যে তার স্বামী আর বেঁচে নেই। হোটেল গোপন রাখায় এবং সঠিক সময়ে খোঁজ না পাওয়ায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর ডসন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় ও উদ্ধারকর্মীরা জেসনিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে চিকিৎসার পর তিনি কোনো হাড় ভাঙা ছাড়াই শুধু কিছু আঁচড় নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। যে পরিবার কয়েক দিন আগে বিয়ের আনন্দ উৎসবে মেতেছিল, তারা এখন ডেভের শেষকৃত্যের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 






















