দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দেশের সীমানায় প্রবেশ করেছে, যা আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ষাকালের সূচনা ঘোষণা করছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় অগ্রগতির ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাবে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয়বাষ্পযুক্ত এই বায়ুপ্রবাহ বর্তমানে দেশের মূল ভূখণ্ড চট্টগ্রাম অঞ্চলে অবস্থান করছে। এটি মধ্যাঞ্চলে পৌঁছাতে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা এবং সারা দেশে সক্রিয় হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। এর প্রভাবে উপকূলীয় জেলাগুলোসহ দেশের মধ্যাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে প্রচুর মেঘমালার সৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক জানান, মৌসুমি বায়ু প্রবেশের ফলে গ্রীষ্মকালীন উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত বাতাসের গতিপথ পরিবর্তন হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া, আকাশে প্রচুর মেঘমালা তৈরি হয়ে দক্ষিণা বাতাসে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়বে, যা তাপপ্রবাহ প্রশমিত করে দেশে এক ধরনের স্বস্তিদায়ক আবহাওয়ার ধারা সৃষ্টি করবে।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৌসুমি বায়ুর এই আগমন কৃষি খাতের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। বিশেষ করে আমন ধানের বীজতলা তৈরি ও চাষাবাদের জন্য এই বৃষ্টিপাত অত্যন্ত সহায়ক হবে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই সময়ে রাজধানীতে ৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। গত শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত যশোরে সর্বোচ্চ ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগ ছাড়া দেশের প্রতিটি বিভাগেই কমবেশি বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের ৫১টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে ২৭টি কেন্দ্র এলাকায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে, আগের দিনের তুলনায় গত শনিবার তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছিল। শনিবার দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় নোয়াখালীতে ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আগের দিন ছিল ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একইভাবে রাজধানীতে তাপমাত্রা বেড়ে ৩৫ দশমিক ২ ডিগ্রিতে পৌঁছায়, যা আগের দিন ছিল ৩৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি। তবে, রোববার থেকে তাপমাত্রা কমতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















