যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক জব্দকৃত ইরানের ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের সম্পদ ফেরত না দিলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা আলী খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মহসেন রেজায়ি। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, লড়াই নতুন করে শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘অন্ধকার সুড়ঙ্গে’ প্রবেশ করবে।
শুক্রবার সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মহসেন রেজায়ি এই মন্তব্য করেন। তেহরানে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বর্তমানে আলোচনা অচলাবস্থায় রয়েছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই অচলাবস্থা ভাঙতে হবে। তাঁর মতে, ‘বল এখন ট্রাম্পের কোর্টে’।
জানা গেছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই অবরুদ্ধ তহবিলের ১২ বিলিয়ন ডলার এবং পরবর্তী ধাপে আরও ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের দাবি জানিয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন যে, এই পর্যায়ে তহবিল ছেড়ে দিলে তা ইরানের ওপর থাকা প্রধান একটি চাপ কমিয়ে দেবে।
এছাড়াও, ট্রাম্পের দাবি, যেকোনো চুক্তি যেন ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয় এবং সেখানে এমন কিছু না থাকে, যা ‘নগদ টাকার প্যালেট’ হস্তান্তরের মতো দেখায়। উল্লেখ্য, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার তেহরানকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সমালোচনা করতে ট্রাম্প এই শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে থাকেন।
ইরানের নিরাপত্তাব্যবস্থার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত মহসেন রেজায়ি সিএনএনের কাছে দেশটির যুদ্ধোত্তর পরিকল্পনা, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ এবং পুনরায় আক্রান্ত হলে ইরানের কৌশল কী হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন। যুদ্ধের প্রথম দিন ইসরাইলি হামলায় তার বাবা নিহত হওয়ার পর থেকে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা জনসমক্ষে আসেননি, রেজায়ি তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। সাক্ষাৎকারে রেজায়ি অবরুদ্ধ ইরানি সম্পদ মুক্ত করার দাবিটিকে একটি আস্থা-বিনিময় পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন এই তহবিল ছাড় দিলে তা ইরান ও আমেরিকার ভবিষ্যতের জন্য ‘নতুন দিগন্ত’ উন্মোচন করবে। রেজায়ি আরও বলেন, ‘ট্রাম্প যদি ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে চান, তবে এই ২৪ বিলিয়ন ডলার হলো ট্রাম্পের প্রতি ইরানের আস্থা রাখার একটি পরীক্ষা। এটি এমন একটি পরীক্ষা যেখানে আমেরিকাকে পাস করতে হবে এবং তাহলেই পথ উন্মুক্ত হবে। এটি আমাদের নিজস্ব টাকা, আমেরিকাকে এটি ফেরত দিতে হবে।’
রিপোর্টারের নাম 






















