ঢাকা ০৬:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের তৎপরতা: কোতোয়ালি ও পাঁচলাইশ প্রধান কেন্দ্র

অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও চট্টগ্রামে নিজেদের সাংগঠনিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে ছাত্রলীগ। বিশেষ করে চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি ও পাঁচলাইশ থানা এলাকাকে তারা তাদের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর গণহত্যা, সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং ফ্যাসিবাদী শাসনামলে হত্যা ও নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকার ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

নগরের বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠনটি বারবার ঝটিকা মিছিলের আয়োজন করছে। নগর পুলিশের রেকর্ড ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কোতোয়ালি ও পাঁচলাইশ থানা এলাকাতেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। এই দুটি এলাকাতেই নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে বেশি মিছিল হয়েছে এবং সর্বাধিক সংখ্যক নেতাকর্মী গ্রেপ্তারও হয়েছেন।

মহানগর পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে ছাত্রলীগ অন্তত ১৭ বার মিছিল করেছে। তবে, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পেজের পোস্ট এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই সংখ্যা ২৮টিরও বেশি। থানাভিত্তিক পরিসংখ্যানে পাঁচলাইশ থানা এলাকায় ছয়টি এবং কোতোয়ালী থানায় পাঁচটি মিছিলের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া ডবলমুরিংয়ে দুটি এবং খুলশী, চকবাজার ও বন্দর এলাকায় একটি করে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ গত ১ জুন নগরের পাঁচলাইশ থানার জিইসি মোড় এলাকায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে মিছিল করে ছাত্রলীগ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কোতোয়ালি ও পাঁচলাইশ থানা এলাকায় ছাত্রলীগের ঘন ঘন তৎপরতার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে। প্রথমত, এই দুটি এলাকায় আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যগত ভোটব্যাংক ও সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক অত্যন্ত মজবুত। দ্বিতীয়ত, একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ছাত্রাবাস থাকায় নেতাকর্মীদের আশ্রয় ও সমাবেশ সহজ হয়। তৃতীয়ত, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ও সরু অলিগলি পথ থাকায় নেতাকর্মীদের পক্ষে মিছিল করে দ্রুত সরে পড়া সম্ভব হয়।

গ্রেপ্তারের সংখ্যা ও ধরন বিশ্লেষণ করলেও কোতোয়ালি ও পাঁচলাইশের এগিয়ে থাকার চিত্র স্পষ্ট। চলতি জুন মাসে সমন্বিত অভিযানে ৭০ জনের মধ্যে শুধু খুলশী থানা এলাকা থেকে ১৩ জন এবং পাঁচলাইশ থানা এলাকা থেকে ৯ জন ছাত্রলীগকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে, ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি জিইসি মোড়ের মিছিল থেকে চারজন গ্রেপ্তার এবং পুলিশের এক উপ-পরিদর্শককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। এছাড়াও, চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল কোতোয়ালী এলাকায় মিছিলের পর ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, মিছিলগুলো দ্রুত শেষ করে নেতাকর্মীরা দ্রুত সরে পড়ে, যা তাদের গ্রেপ্তারে চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদক সেবনে যুবকের এক বছরের কারাদণ্ড

চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের তৎপরতা: কোতোয়ালি ও পাঁচলাইশ প্রধান কেন্দ্র

আপডেট সময় : ১২:১৫:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও চট্টগ্রামে নিজেদের সাংগঠনিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে ছাত্রলীগ। বিশেষ করে চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি ও পাঁচলাইশ থানা এলাকাকে তারা তাদের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর গণহত্যা, সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং ফ্যাসিবাদী শাসনামলে হত্যা ও নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকার ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

নগরের বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠনটি বারবার ঝটিকা মিছিলের আয়োজন করছে। নগর পুলিশের রেকর্ড ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কোতোয়ালি ও পাঁচলাইশ থানা এলাকাতেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। এই দুটি এলাকাতেই নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে বেশি মিছিল হয়েছে এবং সর্বাধিক সংখ্যক নেতাকর্মী গ্রেপ্তারও হয়েছেন।

মহানগর পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে ছাত্রলীগ অন্তত ১৭ বার মিছিল করেছে। তবে, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পেজের পোস্ট এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই সংখ্যা ২৮টিরও বেশি। থানাভিত্তিক পরিসংখ্যানে পাঁচলাইশ থানা এলাকায় ছয়টি এবং কোতোয়ালী থানায় পাঁচটি মিছিলের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া ডবলমুরিংয়ে দুটি এবং খুলশী, চকবাজার ও বন্দর এলাকায় একটি করে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ গত ১ জুন নগরের পাঁচলাইশ থানার জিইসি মোড় এলাকায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে মিছিল করে ছাত্রলীগ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কোতোয়ালি ও পাঁচলাইশ থানা এলাকায় ছাত্রলীগের ঘন ঘন তৎপরতার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে। প্রথমত, এই দুটি এলাকায় আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যগত ভোটব্যাংক ও সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক অত্যন্ত মজবুত। দ্বিতীয়ত, একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ছাত্রাবাস থাকায় নেতাকর্মীদের আশ্রয় ও সমাবেশ সহজ হয়। তৃতীয়ত, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ও সরু অলিগলি পথ থাকায় নেতাকর্মীদের পক্ষে মিছিল করে দ্রুত সরে পড়া সম্ভব হয়।

গ্রেপ্তারের সংখ্যা ও ধরন বিশ্লেষণ করলেও কোতোয়ালি ও পাঁচলাইশের এগিয়ে থাকার চিত্র স্পষ্ট। চলতি জুন মাসে সমন্বিত অভিযানে ৭০ জনের মধ্যে শুধু খুলশী থানা এলাকা থেকে ১৩ জন এবং পাঁচলাইশ থানা এলাকা থেকে ৯ জন ছাত্রলীগকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে, ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি জিইসি মোড়ের মিছিল থেকে চারজন গ্রেপ্তার এবং পুলিশের এক উপ-পরিদর্শককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। এছাড়াও, চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল কোতোয়ালী এলাকায় মিছিলের পর ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, মিছিলগুলো দ্রুত শেষ করে নেতাকর্মীরা দ্রুত সরে পড়ে, যা তাদের গ্রেপ্তারে চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।