যশোরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্বোধন করা ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উপকারভোগীদের তালিকায় গুরুতর অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। প্রাথমিক বাছাইকৃত ১ হাজার ৯৮০ জন উপকারভোগীর মধ্যে অন্তত ৬২ জন সচ্ছল নারীকে এই কার্ড দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই ত্রুটি স্বীকার করে জানিয়েছেন যে, ওই ৬২ জনের ফ্যামিলি কার্ড স্থগিত করা হয়েছে এবং তাদের কাছে যাওয়া অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই ঘটনার জেরে উপকারভোগী যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্বে থাকা সমাজসেবা অধিদপ্তরের দপ্তরপ্রধানসহ তিন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। তবে এই বদলি শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নাকি নিয়মিত রুটিন ওয়ার্ক, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গত ১৬ মে যশোর সদরের চাঁচড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি এই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ওই অনুষ্ঠানে যশোর সদর আসনের সংসদ সদস্য এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত উপস্থিত থেকে তালিকাভুক্ত নারীদের হাতে কার্ড তুলে দেন।
জানা যায়, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প, তাই এর উপকারভোগী নির্বাচন নিয়ে কোনো বিতর্ক যেন সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান অত্যন্ত তৎপর ছিলেন। তিনি বারবার সমাজসেবা অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক হারুন অর রশিদকে এ বিষয়ে তাগাদা দেন। জেলা প্রশাসক এতেও সন্তুষ্ট না হয়ে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সহায়তা নেন। এনএসআইয়ের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা ১৪ মে সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসককে জানান যে, তাদের অনুসন্ধানে অন্তত ৬২ জন সচ্ছল পরিবারকে সম্ভাব্য সুবিধাভোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর পরপরই জেলা প্রশাসক সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
রিপোর্টারের নাম 























