দেশব্যাপী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী আগস্ট মাসে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে এবং অক্টোবরের শেষভাগ থেকে পর্যায়ক্রমে ভোটগ্রহণ শুরু হতে পারে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচনের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন আগে আয়োজনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা পদাধিকারবলে উপজেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ছাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজন জটিল হয়ে পড়তে পারে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, নিয়ম অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন আগে হওয়া উচিত। একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন নির্বাচন সমান্তরালভাবে আয়োজন করা সম্ভব হলেও জেলা পরিষদ নির্বাচন সবার শেষে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি জানান, অক্টোবরের শেষদিকে ভোটগ্রহণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলে আগস্ট মাসেই তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।
অন্যদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পর সেপ্টেম্বর অথবা অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ এবং সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।
বিধিমালায় আসছে বড় পরিবর্তন
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ, সহজ এবং প্রভাবমুক্ত করতে নির্বাচন বিধিমালা ও আচরণবিধিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। চলতি জুন মাসের মধ্যেই সংশোধিত বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে—
- নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার বন্ধ
- অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ না রাখা
- দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে নির্দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন আয়োজন
- ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার না করা
- ডাকযোগে ভোটগ্রহণ ব্যবস্থা বাতিল
- স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনপত্র জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া
এ ছাড়া নির্বাচনে জামানতের পরিমাণ বৃদ্ধি, পলাতক বা ফেরারি আসামিদের প্রার্থিতা বাতিল এবং নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন না করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, প্রার্থীদের হলফনামায় আলাদা কোনো অঙ্গীকারনামা রাখা হবে না। তবে আচরণবিধি মেনে চলার বিষয়ে বাধ্যতামূলক ঘোষণা যুক্ত থাকবে।
সবার জন্য মতামত দেওয়ার সুযোগ
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংশোধিত বিধিমালার খসড়া প্রস্তুত হওয়ার পর তা কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ এবং সাধারণ নাগরিকরা সেখানে নিজেদের মতামত জানাতে পারবেন।
তবে এ বিষয়ে আলাদা কোনো সংলাপ বা বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা আপাতত নেই বলে জানিয়েছেন কমিশনের কর্মকর্তারা।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কি নির্বাচন করতে পারবেন?
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাছে কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয় নয়, বরং প্রার্থীর আইনগত যোগ্যতাই মুখ্য। আইন অনুযায়ী যোগ্যতা পূরণ করলে যে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।
নির্বাচনের পরিসর
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মোট ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছর নির্বাচন উপযোগী হবে ৩ হাজার ৭৫৫টি ইউনিয়ন পরিষদ।
এ ছাড়া রয়েছে—
- ৩৩০টি পৌরসভা
- ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ
- ১৩টি সিটি করপোরেশন
- ৬১টি জেলা পরিষদ
সম্প্রতি বগুড়াকে নতুন সিটি করপোরেশন হিসেবে অনুমোদন দেওয়ায় দেশে সিটি করপোরেশনের সংখ্যা বেড়ে ১৩টিতে দাঁড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই দেশের অন্যতম বৃহৎ নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 






















