ঢাকা ০৬:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

সীমান্ত হত্যা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য আপত্তিকর, প্রত্যাহার জরুরি: নাহিদ ইসলাম

সীমান্তে ভারতীয় বাহিনীর হাতে নির্বিচার হত্যাকাণ্ড নিয়ে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের দেওয়া বক্তব্যকে ‘অত্যন্ত আপত্তিকর ও অপমানজনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, সরকারের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছ থেকে এমন মন্তব্য জাতি হিসেবে আমাদের জন্য লজ্জার। শনিবার (৬ জুন) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা জানান।

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বিতর্কিত মন্তব্যের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও তিনি তা প্রত্যাহার বা ব্যাখ্যা করেননি। এমনকি সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো নিন্দা বা আপত্তি জানানো হয়নি। এ পরিস্থিতি দেখে আমরা ধরে নিতে বাধ্য হচ্ছি যে, সীমান্ত হত্যাকাণ্ড বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদের মন্তব্যই সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থানকে প্রতিফলিত করছে।

তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘সীমান্ত হত্যা’ শব্দটির সংজ্ঞাকে সংকুচিত করে এই সংকটকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। তার যুক্তি অনুযায়ী, শূন্যরেখায় (জিরো লাইন) সংঘটিত মৃত্যুই কেবল সীমান্ত হত্যা হিসেবে গণ্য। আর সীমান্ত সংশ্লিষ্ট অপরাধ বা অবৈধ অনুপ্রবেশে জড়িত ব্যক্তিদের মৃত্যু সংশ্লিষ্ট দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভ্যন্তরীণ এখতিয়ারের আওতাভুক্ত, এবং এগুলোকে সীমান্ত হত্যা বলা সঙ্গত নয়।

তবে নাহিদ ইসলাম জাতিসংঘের মানবাধিকার নীতিমালা এবং জেনেভা কনভেনশনসহ আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর কথা স্মরণ করিয়ে দেন। এসব আইন নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষের ওপর বেআইনি গুলি, নির্যাতন বা নিষ্ঠুর আচরণকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। জেনেভা কনভেনশন যুদ্ধ বা সশস্ত্র সংঘাতের সময়েও বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে সহিংসতা নিষিদ্ধ করে। একইসাথে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য প্রণীত জাতিসংঘের নীতিমালা অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনী কেবল প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক মাত্রার বলপ্রয়োগ করতে পারে। প্রাণঘাতী শক্তির অতিরিক্ত বা নির্বিচার ব্যবহার আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়।

এনসিপির আহ্বায়ক আরও উল্লেখ করেন যে, এর আগে ২০২০ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনও সীমান্ত হত্যাকাণ্ড বিষয়ে একই ধরনের মন্তব্য করে সমালোচিত হয়েছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদক সেবনে যুবকের এক বছরের কারাদণ্ড

সীমান্ত হত্যা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য আপত্তিকর, প্রত্যাহার জরুরি: নাহিদ ইসলাম

আপডেট সময় : ১১:১১:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

সীমান্তে ভারতীয় বাহিনীর হাতে নির্বিচার হত্যাকাণ্ড নিয়ে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের দেওয়া বক্তব্যকে ‘অত্যন্ত আপত্তিকর ও অপমানজনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, সরকারের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছ থেকে এমন মন্তব্য জাতি হিসেবে আমাদের জন্য লজ্জার। শনিবার (৬ জুন) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা জানান।

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বিতর্কিত মন্তব্যের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও তিনি তা প্রত্যাহার বা ব্যাখ্যা করেননি। এমনকি সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো নিন্দা বা আপত্তি জানানো হয়নি। এ পরিস্থিতি দেখে আমরা ধরে নিতে বাধ্য হচ্ছি যে, সীমান্ত হত্যাকাণ্ড বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদের মন্তব্যই সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থানকে প্রতিফলিত করছে।

তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘সীমান্ত হত্যা’ শব্দটির সংজ্ঞাকে সংকুচিত করে এই সংকটকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। তার যুক্তি অনুযায়ী, শূন্যরেখায় (জিরো লাইন) সংঘটিত মৃত্যুই কেবল সীমান্ত হত্যা হিসেবে গণ্য। আর সীমান্ত সংশ্লিষ্ট অপরাধ বা অবৈধ অনুপ্রবেশে জড়িত ব্যক্তিদের মৃত্যু সংশ্লিষ্ট দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভ্যন্তরীণ এখতিয়ারের আওতাভুক্ত, এবং এগুলোকে সীমান্ত হত্যা বলা সঙ্গত নয়।

তবে নাহিদ ইসলাম জাতিসংঘের মানবাধিকার নীতিমালা এবং জেনেভা কনভেনশনসহ আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর কথা স্মরণ করিয়ে দেন। এসব আইন নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষের ওপর বেআইনি গুলি, নির্যাতন বা নিষ্ঠুর আচরণকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। জেনেভা কনভেনশন যুদ্ধ বা সশস্ত্র সংঘাতের সময়েও বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে সহিংসতা নিষিদ্ধ করে। একইসাথে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য প্রণীত জাতিসংঘের নীতিমালা অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনী কেবল প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক মাত্রার বলপ্রয়োগ করতে পারে। প্রাণঘাতী শক্তির অতিরিক্ত বা নির্বিচার ব্যবহার আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়।

এনসিপির আহ্বায়ক আরও উল্লেখ করেন যে, এর আগে ২০২০ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনও সীমান্ত হত্যাকাণ্ড বিষয়ে একই ধরনের মন্তব্য করে সমালোচিত হয়েছিলেন।