ঢাকা ০১:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬

রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় ফিনল্যান্ডের ২০ লাখ ইউরো অনুদান

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে ২০ লাখ ইউরো অনুদান দিয়েছে ফিনল্যান্ড। ক্রমবর্ধমান মানবিক চাহিদা, সীমিত অর্থায়ন এবং তহবিল সংকটের মধ্যে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করতেই এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

রোববার ঢাকায় প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা UNHCR। সংস্থাটি জানিয়েছে, নতুন এই অর্থায়ন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য পরিচালিত বিভিন্ন জরুরি কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফিনল্যান্ডের দেওয়া এই অনুদানের মাধ্যমে চলমান অর্থসংকট আংশিকভাবে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের দক্ষতা উন্নয়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আত্মনির্ভরশীলতা তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নিপীড়ন, সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে নিজ দেশ মিয়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা। বর্তমানে দেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে। তাদের বেশিরভাগই কক্সবাজারের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে অবস্থান করছে এবং জীবিকার সীমিত সুযোগের কারণে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাত্র ২৩ শতাংশ রোহিঙ্গা পরিবার ‘কাজের বিনিময়ে অর্থ’ কর্মসূচির মাধ্যমে কিছু আয় করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে ৪২ শতাংশ পরিবার অনিয়মিত ও অনিশ্চিত আয়ের ওপর নির্ভর করেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, প্রায় ৩৫ শতাংশ পরিবারের কোনো ধরনের আয় ছিল না, ফলে তাদের জীবনযাত্রা পুরোপুরি মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, চলমান তহবিল সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে নারী, কিশোরী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং বয়স্ক মানুষ। এছাড়া ২০২৪ সালের শুরু থেকে নতুন করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গাও নানা ধরনের মানবিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।

মানবিক সংস্থাগুলোর মতে, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ার ফলে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং সুরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় চাপ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ফিনল্যান্ডের এই অনুদান জরুরি সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রোহিঙ্গা সংকট এখনো বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকট। তাই শুধু মানবিক সহায়তা নয়, সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ধারাবাহিক অর্থায়ন প্রয়োজন। ফিনল্যান্ডের নতুন এই সহায়তা সেই আন্তর্জাতিক সহযোগিতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্ভাব্য চীন সফর ঘিরে আলোচনা, বাংলাদেশের কূটনীতি নিয়ে নতুন বিতর্ক

রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় ফিনল্যান্ডের ২০ লাখ ইউরো অনুদান

আপডেট সময় : ১২:৩১:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে ২০ লাখ ইউরো অনুদান দিয়েছে ফিনল্যান্ড। ক্রমবর্ধমান মানবিক চাহিদা, সীমিত অর্থায়ন এবং তহবিল সংকটের মধ্যে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করতেই এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

রোববার ঢাকায় প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা UNHCR। সংস্থাটি জানিয়েছে, নতুন এই অর্থায়ন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য পরিচালিত বিভিন্ন জরুরি কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফিনল্যান্ডের দেওয়া এই অনুদানের মাধ্যমে চলমান অর্থসংকট আংশিকভাবে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের দক্ষতা উন্নয়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আত্মনির্ভরশীলতা তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নিপীড়ন, সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে নিজ দেশ মিয়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা। বর্তমানে দেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে। তাদের বেশিরভাগই কক্সবাজারের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে অবস্থান করছে এবং জীবিকার সীমিত সুযোগের কারণে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাত্র ২৩ শতাংশ রোহিঙ্গা পরিবার ‘কাজের বিনিময়ে অর্থ’ কর্মসূচির মাধ্যমে কিছু আয় করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে ৪২ শতাংশ পরিবার অনিয়মিত ও অনিশ্চিত আয়ের ওপর নির্ভর করেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, প্রায় ৩৫ শতাংশ পরিবারের কোনো ধরনের আয় ছিল না, ফলে তাদের জীবনযাত্রা পুরোপুরি মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, চলমান তহবিল সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে নারী, কিশোরী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং বয়স্ক মানুষ। এছাড়া ২০২৪ সালের শুরু থেকে নতুন করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গাও নানা ধরনের মানবিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।

মানবিক সংস্থাগুলোর মতে, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ার ফলে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং সুরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় চাপ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ফিনল্যান্ডের এই অনুদান জরুরি সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রোহিঙ্গা সংকট এখনো বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকট। তাই শুধু মানবিক সহায়তা নয়, সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ধারাবাহিক অর্থায়ন প্রয়োজন। ফিনল্যান্ডের নতুন এই সহায়তা সেই আন্তর্জাতিক সহযোগিতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।