দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের আকাশে বিধ্বস্ত হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিমান সম্ভবত চীনা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভূপাতিত হয়েছিল। এমন তথ্য উঠে এসেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের একটি প্রতিবেদনে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া একটি সংঘাতের সময় চীন ইরানকে অতিরিক্ত সামরিক সহায়তা প্রদান করেছিল, যার মধ্যে স্টিলথ যুদ্ধবিমান প্রযুক্তি এবং দূরপাল্লার রাডার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই উন্নত সরঞ্জামগুলো ইরানের সক্ষমতা বাড়িয়ে থাকতে পারে, যা মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগলের মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান শনাক্ত করতে সহায়ক।
ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, যুদ্ধবিমানটি কাঁধ থেকে নিক্ষেপণযোগ্য ম্যানপ্যাড ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়েছিল। এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোট এবং বহনযোগ্য, যা একজন ব্যক্তি সহজেই বহন করতে পারেন এবং নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া বিমান লক্ষ্য করে ছুড়তে পারেন। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর এর ক্রুদের খুঁজে বের করতে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা ধরে দীর্ঘ তল্লাশি অভিযান চালাতে হয়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা এখনও তদন্ত করছেন কীভাবে এই যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হয়েছিল, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে শত্রুভাবাপন্ন দেশের হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার প্রথম ঘটনা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চীন ঠিক কবে ইরানকে এই সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছিল তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে, ইরান যদি সত্যিই চীনা অস্ত্র ব্যবহার করে থাকে, তবে তা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলবে। ওয়াশিংটন এটিকে ইরানের প্রতি বেইজিংয়ের পরোক্ষ সমর্থন হিসেবে দেখতে পারে। মার্কিন-ইরান সংঘাত নিরসনে চীনের সহায়তা আদায়ের চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, চীন ইরানকে আরও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার পরিকল্পনা করছিল। কিছু সাবেক কর্মকর্তা মনে করেন, চীনের সম্ভাব্য পরিকল্পনা ফাঁস করার উদ্দেশ্যেই এই গোয়েন্দা তথ্যগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















