ঢাকা ০১:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের কঠোর অবস্থান: ক্ষেপণাস্ত্র শক্তির উপর নির্ভরতা ও সীমিত সমঝোতার ইঙ্গিত

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা যখন পাকিস্তানি ও আঞ্চলিক মধ্যস্থতায় এগোচ্ছে, তখন ইরান স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, আলোচনার টেবিলে অর্জিত যেকোনও ছাড় তাদের শক্তির ফসল, কোনও আপস নয়। উভয় পক্ষই বড় সংঘাত এড়াতে আগ্রহী হলেও তেহরানের এই সুর ইঙ্গিত দেয় যে, ভবিষ্যতের চুক্তি পারস্পরিক বিশ্বাসের ওপর নয়, বরং কৌশলগত শত্রুতার মাঝে গড়ে ওঠা একটি সীমিত ও সাময়িক বোঝাপড়া মাত্র। আর তেহরানের নীতিতে এখন কূটনীতি নয়, ক্ষেপণাস্ত্রই শক্তির মূল ভিত্তি।

ইরানের প্রতিনিধিদলের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক্স-এ লিখেছেন, ‘আমরা আলোচনার মাধ্যমে নয়, ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ছাড় আদায় করি।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘যেকোনও চুক্তির প্রকৃত বিজয়ী হলো সেই পক্ষ, যে চুক্তির পরদিনই যুদ্ধের জন্য সবচেয়ে ভালো প্রস্তুতি নিয়ে রাখে।’ ইরানের কট্টরপন্থিরা এখন কূটনীতিকে উত্তেজনা প্রশমন হিসেবে না দেখে তাদের প্রতিরক্ষামূলক কৌশলের অংশ হিসেবে তুলে ধরছেন। পাকিস্তান, কাতার ও ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনা খসড়া সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছালেও পারস্য উপসাগরে সামরিক উত্তেজনা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ নিয়ে বিরোধ এই প্রক্রিয়াকে ভঙ্গুর করে তুলছে।

মার্কিন নৌ-অবরোধ সত্ত্বেও ইরান আত্মবিশ্বাসী। সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, ‘হয় আলোচনার মাধ্যমে, না হয় সরাসরি পদক্ষেপের’ মাধ্যমে অবরোধ ভাঙা হবে। অপর কর্মকর্তারা দাবি করছেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে এবং মার্কিন সেনারা সেখানে ব্যর্থ হয়ে ফিরে যাচ্ছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেছেন, ইরানকে স্থায়ীভাবে পারমাণবিক অস্ত্রের পথ পরিহার করতে হবে, হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে উন্মুক্ত করতে হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তেহরান কোনও অর্থ পাবে না।

ট্রাম্প এই আলোচনাকে মার্কিন চাপের ফল হিসেবে দেখালেও ইরান একে তাদের প্রতিরোধ কৌশলের স্বীকৃতি মনে করছে। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিতে আগেভাগে ছাড় দিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে তেহরান এবার সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক লাভ নিশ্চিত করতে চায়। তাই বিস্তারিত পারমাণবিক আলোচনার আগে তারা যুদ্ধের পরিবেশের অবসান, নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার ও আটকে থাকা বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ফেরত চায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্ভাব্য চীন সফর ঘিরে আলোচনা, বাংলাদেশের কূটনীতি নিয়ে নতুন বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের কঠোর অবস্থান: ক্ষেপণাস্ত্র শক্তির উপর নির্ভরতা ও সীমিত সমঝোতার ইঙ্গিত

আপডেট সময় : ১১:৫৮:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা যখন পাকিস্তানি ও আঞ্চলিক মধ্যস্থতায় এগোচ্ছে, তখন ইরান স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, আলোচনার টেবিলে অর্জিত যেকোনও ছাড় তাদের শক্তির ফসল, কোনও আপস নয়। উভয় পক্ষই বড় সংঘাত এড়াতে আগ্রহী হলেও তেহরানের এই সুর ইঙ্গিত দেয় যে, ভবিষ্যতের চুক্তি পারস্পরিক বিশ্বাসের ওপর নয়, বরং কৌশলগত শত্রুতার মাঝে গড়ে ওঠা একটি সীমিত ও সাময়িক বোঝাপড়া মাত্র। আর তেহরানের নীতিতে এখন কূটনীতি নয়, ক্ষেপণাস্ত্রই শক্তির মূল ভিত্তি।

ইরানের প্রতিনিধিদলের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক্স-এ লিখেছেন, ‘আমরা আলোচনার মাধ্যমে নয়, ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ছাড় আদায় করি।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘যেকোনও চুক্তির প্রকৃত বিজয়ী হলো সেই পক্ষ, যে চুক্তির পরদিনই যুদ্ধের জন্য সবচেয়ে ভালো প্রস্তুতি নিয়ে রাখে।’ ইরানের কট্টরপন্থিরা এখন কূটনীতিকে উত্তেজনা প্রশমন হিসেবে না দেখে তাদের প্রতিরক্ষামূলক কৌশলের অংশ হিসেবে তুলে ধরছেন। পাকিস্তান, কাতার ও ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনা খসড়া সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছালেও পারস্য উপসাগরে সামরিক উত্তেজনা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ নিয়ে বিরোধ এই প্রক্রিয়াকে ভঙ্গুর করে তুলছে।

মার্কিন নৌ-অবরোধ সত্ত্বেও ইরান আত্মবিশ্বাসী। সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, ‘হয় আলোচনার মাধ্যমে, না হয় সরাসরি পদক্ষেপের’ মাধ্যমে অবরোধ ভাঙা হবে। অপর কর্মকর্তারা দাবি করছেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে এবং মার্কিন সেনারা সেখানে ব্যর্থ হয়ে ফিরে যাচ্ছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেছেন, ইরানকে স্থায়ীভাবে পারমাণবিক অস্ত্রের পথ পরিহার করতে হবে, হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে উন্মুক্ত করতে হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তেহরান কোনও অর্থ পাবে না।

ট্রাম্প এই আলোচনাকে মার্কিন চাপের ফল হিসেবে দেখালেও ইরান একে তাদের প্রতিরোধ কৌশলের স্বীকৃতি মনে করছে। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিতে আগেভাগে ছাড় দিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে তেহরান এবার সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক লাভ নিশ্চিত করতে চায়। তাই বিস্তারিত পারমাণবিক আলোচনার আগে তারা যুদ্ধের পরিবেশের অবসান, নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার ও আটকে থাকা বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ফেরত চায়।