ঢাকা ১১:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬

ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে ‘ডুমস্ক্রোলিং’: ঝুঁকিতে কিশোর-কিশোরীদের মস্তিষ্ক

পড়াশোনা ও শারীরিক বিকাশের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কিশোর-কিশোরীদের যখন পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজন, তখন অনেকেই গভীর রাত পর্যন্ত মুঠোফোনের স্ক্রিনে আসক্ত থাকছে। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাকাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস এবং অ্যাকাডেমি অব স্লিপ মেডিসিন প্রতি রাতে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুমের পরামর্শ দিলেও, নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে যে স্কুল খোলার দিনগুলোতেও অর্ধেকের বেশি কিশোর-কিশোরী রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে এক ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় মুঠোফোনে ব্যয় করছে।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার পেডিয়াট্রিকস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জেসন এম নাগাতা জানান, কিশোর-কিশোরীদের অর্ধেকেরও বেশি মধ্যরাতে (১২টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে) ফোন ব্যবহার করে। অ্যাডোলসেন্ট ব্রেন কগনিটিভ ডেভেলপমেন্ট স্টাডির তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখেছেন, রাতের ফোন ব্যবহারের ধরণ কিশোর-কিশোরীদের ঘুমের সময় কমিয়ে দিচ্ছে। যদিও এই গবেষণায় রাতের ফোন ব্যবহারের সঙ্গে সরাসরি কোনো ক্ষতির যোগসূত্র দেখানো হয়নি, পূর্ববর্তী গবেষণায় ঘুমের ব্যাঘাতের নেতিবাচক প্রভাব প্রমাণিত হয়েছে।

ব্রাউন ইউনিভার্সিটির মনোরোগ ও মানব আচরণ বিষয়ের অধ্যাপক ড. মেরি এ কার্সকাডন বলেন, ‘ঘুমের সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার কারণে কিশোর-কিশোরীদের পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে না, যা তাদের জেগে থাকার সময়ের আচরণে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’ ঘুমের অভাব মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ব্যাহত করে, ফলে শেখা তথ্য মনে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। অধ্যাপক কার্সকাডন আরও বলেন, ‘কিশোর বয়সের অন্যতম প্রধান কাজ হলো শেখা, তা স্কুলের পড়াশোনা হোক, খেলাধুলা হোক বা সামাজিক মেলামেশা।’

২০১৩ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের টানা এক সপ্তাহ মাত্র সাড়ে ৬ ঘণ্টা ঘুমাতে দিলে তাদের মধ্যে উদ্বেগ, রাগ, বিভ্রান্তি, ক্লান্তি ও খিটখিটে মেজাজ অনেক বেড়ে যায়। নাগাতা ও কার্সকাডন আরও জানান, ঘুমের অভাব মানসিক স্বাস্থ্যকে ঝুঁকিতে ফেলে। এর ফলে বিষণ্নতা, উদ্বেগ, আত্মহত্যার চিন্তা, নিজের ক্ষতি করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ করার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। গবেষণায় দেখা গেছে, কিশোর-কিশোরীরা মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিনোদন, গেম ও গানের জন্য রাতে ফোন ব্যবহার করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কোরবানির চামড়া সিন্ডিকেট: প্রান্তিক ব্যবসায়ী ও এতিমখানাগুলো আবারও ক্ষতিগ্রস্ত

ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে ‘ডুমস্ক্রোলিং’: ঝুঁকিতে কিশোর-কিশোরীদের মস্তিষ্ক

আপডেট সময় : ০৯:৫১:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

পড়াশোনা ও শারীরিক বিকাশের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কিশোর-কিশোরীদের যখন পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজন, তখন অনেকেই গভীর রাত পর্যন্ত মুঠোফোনের স্ক্রিনে আসক্ত থাকছে। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাকাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস এবং অ্যাকাডেমি অব স্লিপ মেডিসিন প্রতি রাতে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুমের পরামর্শ দিলেও, নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে যে স্কুল খোলার দিনগুলোতেও অর্ধেকের বেশি কিশোর-কিশোরী রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে এক ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় মুঠোফোনে ব্যয় করছে।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার পেডিয়াট্রিকস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জেসন এম নাগাতা জানান, কিশোর-কিশোরীদের অর্ধেকেরও বেশি মধ্যরাতে (১২টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে) ফোন ব্যবহার করে। অ্যাডোলসেন্ট ব্রেন কগনিটিভ ডেভেলপমেন্ট স্টাডির তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখেছেন, রাতের ফোন ব্যবহারের ধরণ কিশোর-কিশোরীদের ঘুমের সময় কমিয়ে দিচ্ছে। যদিও এই গবেষণায় রাতের ফোন ব্যবহারের সঙ্গে সরাসরি কোনো ক্ষতির যোগসূত্র দেখানো হয়নি, পূর্ববর্তী গবেষণায় ঘুমের ব্যাঘাতের নেতিবাচক প্রভাব প্রমাণিত হয়েছে।

ব্রাউন ইউনিভার্সিটির মনোরোগ ও মানব আচরণ বিষয়ের অধ্যাপক ড. মেরি এ কার্সকাডন বলেন, ‘ঘুমের সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার কারণে কিশোর-কিশোরীদের পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে না, যা তাদের জেগে থাকার সময়ের আচরণে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’ ঘুমের অভাব মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ব্যাহত করে, ফলে শেখা তথ্য মনে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। অধ্যাপক কার্সকাডন আরও বলেন, ‘কিশোর বয়সের অন্যতম প্রধান কাজ হলো শেখা, তা স্কুলের পড়াশোনা হোক, খেলাধুলা হোক বা সামাজিক মেলামেশা।’

২০১৩ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের টানা এক সপ্তাহ মাত্র সাড়ে ৬ ঘণ্টা ঘুমাতে দিলে তাদের মধ্যে উদ্বেগ, রাগ, বিভ্রান্তি, ক্লান্তি ও খিটখিটে মেজাজ অনেক বেড়ে যায়। নাগাতা ও কার্সকাডন আরও জানান, ঘুমের অভাব মানসিক স্বাস্থ্যকে ঝুঁকিতে ফেলে। এর ফলে বিষণ্নতা, উদ্বেগ, আত্মহত্যার চিন্তা, নিজের ক্ষতি করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ করার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। গবেষণায় দেখা গেছে, কিশোর-কিশোরীরা মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিনোদন, গেম ও গানের জন্য রাতে ফোন ব্যবহার করে।