বহুল আলোচিত ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে। সেই হিসাবে বর্তমান সরকারের প্রথম ১০০ দিন পূর্ণ হচ্ছে আজ। রাষ্ট্র পরিচালনার ইতিহাসে ‘প্রথম ১০০ দিন’ কেবল একটি সময়সীমা নয়, এটি নতুন সরকারের রাজনৈতিক দর্শন, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ রূপরেখার প্রথম পরীক্ষাগার।
বিশ্বের বহু গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই প্রথম ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করে। কারণ এই সময়েই জনগণ বুঝতে শুরু করে যে, পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা রূপ পাচ্ছে।
একটি গ্রন্থে, যা ধারাবাহিকভাবে একটি জাতীয় দৈনিকের কলাম হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল, সেখানে প্রথম ১০০ দিনের গুরুত্ব নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছিল। বিশ্ব রাজনীতির বিভিন্ন উদাহরণ—যুক্তরাষ্ট্রের ‘নিউ ডিল’ কর্মসূচি, দক্ষিণ আফ্রিকার পুনর্মিলনের রাজনীতি, সিঙ্গাপুরের দুর্নীতিবিরোধী মডেল কিংবা দক্ষিণ কোরিয়ার ডিজিটাল স্বচ্ছতার উদ্যোগ—সব ক্ষেত্রেই একটি বিষয় স্পষ্ট ছিল: ক্ষমতায় এসেই জনগণকে দৃশ্যমান বার্তা দিতে হয় যে রাষ্ট্র কাজ করতে চায়, বদলাতে চায় এবং জনগণের আস্থা পুনর্গঠনে আন্তরিক। শুধু ভাষণ নয়, প্রশাসনিক আচরণ, আইনশৃঙ্খলা, বাজারব্যবস্থা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্য দিয়েই সেই বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে যায়। নতুন বিএনপি সরকারের প্রথম ১০০ দিনকে তাই এই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটেই মূল্যায়ন করা জরুরি।
প্রথমেই ইতিবাচক দিকগুলো স্বীকার করতে হবে। সরকার অল্প সময়ে কিছু দৃশ্যমান উন্নয়নমূলক ও জনমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কৃষিঋণ পুনর্বিন্যাস, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি, খাল পুনঃখনন প্রকল্প, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় বিশেষ মনিটরিং সেল, গ্রামীণ সড়ক সংস্কার এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সক্রিয় করার উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করেছে। প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতাও দৃশ্যমান হয়েছে। অনেক এলাকায় বাজার তদারকি বৃদ্ধি এবং সেবা খাতে গতিশীলতা জনমনে কিছুটা হলেও আশাবাদ সৃষ্টি করেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সরকার অন্তত জনগণকে এই বার্তাটি দিতে সক্ষম হয়েছে যে, তারা নিষ্ক্রিয় নয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্লান্তির পর এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক অর্জন। কিন্তু রাষ্ট্র…
রিপোর্টারের নাম 
























