ঢাকা ০৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

এভারেস্টে নতুন বিশ্বরেকর্ড: একদিনে চূড়ায় ২৭৪ পর্বতারোহী

অনুকূল আবহাওয়ার সুবাদে গত বুধবার মাউন্ট এভারেস্টের দক্ষিণ দিক (নেপাল অংশ) দিয়ে রেকর্ডসংখ্যক ২৭৪ জন আরোহী একদিনেই চূড়ায় আরোহণ করেছেন। নেপালের একজন অভিজ্ঞ পর্বতারোহণ কর্মকর্তা এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নেপালের এক্সপেডিশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের একজন কর্মকর্তা জানান, চমৎকার আবহাওয়া এবং বিপুলসংখ্যক আরোহীর অপেক্ষার কারণে এই নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। ৮ হাজার ৮৪৮ মিটার উঁচু এই চূড়ায় আরোহণের জন্য সপ্তাহের শেষের দিকে তীব্র বাতাসের পূর্বাভাস থাকায় পর্বতারোহীরা এই সুযোগ কাজে লাগাতে দ্বিধা করেননি।

এর আগে ২০১৯ সালের ২২ মে একদিনে সর্বোচ্চ ২২৩ জন আরোহী দক্ষিণ দিক দিয়ে এভারেস্ট জয় করেছিলেন, যা ছিল পূর্ববর্তী রেকর্ড। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে প্রায় ৫০ জন বেশি আরোহী একই দিনে চূড়ায় পৌঁছালেন। যদিও সে বছর তিব্বত অংশ (উত্তর দিক) দিয়েও অনেকে চূড়ায় ওঠায় মোট আরোহীর সংখ্যা বেশি ছিল। তবে এই বছর চীন উত্তর দিক দিয়ে পর্বতারোহণের কোনো অনুমতি দেয়নি বলে জানা গেছে।

বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্ট জয়ের জন্য আরোহীরা সাধারণত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে শেষ ভাগ পর্যন্ত একটি উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষা করেন। এই সময়ে শীতকালীন তীব্র বাতাস কিছুটা কমে আসে। তবে এভারেস্টে অতিরিক্ত ভিড়ের সমস্যাটি গত কয়েক বছর ধরেই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৯ সালে একজন পর্বতারোহীর তোলা একটি ছবিতে দেখা গিয়েছিল, চূড়ায় ওঠার জন্য উন্মুক্ত এক পাহাড়ি খাঁজে আরোহীদের দীর্ঘ সারি। তিনি সে সময় জানিয়েছিলেন, ‘মৃত্যু অঞ্চল’ হিসেবে পরিচিত ওই অংশে চূড়ায় ওঠার জন্য প্রায় ৩২০ জন মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

চলতি বছর এভারেস্টের সুউচ্চ চূড়ায় ওঠার পথটি বরফে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় শত শত আরোহীর যাত্রা ব্যাহত হয়েছিল। ‘আইসফল ডক্টরস’ নামে পরিচিত উচ্চ-উচ্চতার বিশেষায়িত কর্মীরা ‘সেরাক’ নামের একটি বিশাল বরফখণ্ড অপসারণ করতে কয়েক সপ্তাহ ধরে কাজ করেন। গত ১৩ মে অবশেষে পথটি উন্মুক্ত করা হয়। তবে এই বিলম্বের কারণে আরোহীদের ভিড় জমে যায় এবং চূড়ায় ওঠার সময় কমে আসায় পর্বতটিতে অতিরিক্ত ভিড় ও জ্যামের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

উল্লেখ্য, নেপাল কর্তৃপক্ষ এই বছর এভারেস্ট জয়ের জন্য প্রায় ৫০০টি অনুমতিপত্র ইস্যু করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অশ্রুসিক্ত নয়নে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন নেইমার

এভারেস্টে নতুন বিশ্বরেকর্ড: একদিনে চূড়ায় ২৭৪ পর্বতারোহী

আপডেট সময় : ০৫:০৫:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

অনুকূল আবহাওয়ার সুবাদে গত বুধবার মাউন্ট এভারেস্টের দক্ষিণ দিক (নেপাল অংশ) দিয়ে রেকর্ডসংখ্যক ২৭৪ জন আরোহী একদিনেই চূড়ায় আরোহণ করেছেন। নেপালের একজন অভিজ্ঞ পর্বতারোহণ কর্মকর্তা এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নেপালের এক্সপেডিশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের একজন কর্মকর্তা জানান, চমৎকার আবহাওয়া এবং বিপুলসংখ্যক আরোহীর অপেক্ষার কারণে এই নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। ৮ হাজার ৮৪৮ মিটার উঁচু এই চূড়ায় আরোহণের জন্য সপ্তাহের শেষের দিকে তীব্র বাতাসের পূর্বাভাস থাকায় পর্বতারোহীরা এই সুযোগ কাজে লাগাতে দ্বিধা করেননি।

এর আগে ২০১৯ সালের ২২ মে একদিনে সর্বোচ্চ ২২৩ জন আরোহী দক্ষিণ দিক দিয়ে এভারেস্ট জয় করেছিলেন, যা ছিল পূর্ববর্তী রেকর্ড। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে প্রায় ৫০ জন বেশি আরোহী একই দিনে চূড়ায় পৌঁছালেন। যদিও সে বছর তিব্বত অংশ (উত্তর দিক) দিয়েও অনেকে চূড়ায় ওঠায় মোট আরোহীর সংখ্যা বেশি ছিল। তবে এই বছর চীন উত্তর দিক দিয়ে পর্বতারোহণের কোনো অনুমতি দেয়নি বলে জানা গেছে।

বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্ট জয়ের জন্য আরোহীরা সাধারণত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে শেষ ভাগ পর্যন্ত একটি উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষা করেন। এই সময়ে শীতকালীন তীব্র বাতাস কিছুটা কমে আসে। তবে এভারেস্টে অতিরিক্ত ভিড়ের সমস্যাটি গত কয়েক বছর ধরেই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৯ সালে একজন পর্বতারোহীর তোলা একটি ছবিতে দেখা গিয়েছিল, চূড়ায় ওঠার জন্য উন্মুক্ত এক পাহাড়ি খাঁজে আরোহীদের দীর্ঘ সারি। তিনি সে সময় জানিয়েছিলেন, ‘মৃত্যু অঞ্চল’ হিসেবে পরিচিত ওই অংশে চূড়ায় ওঠার জন্য প্রায় ৩২০ জন মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

চলতি বছর এভারেস্টের সুউচ্চ চূড়ায় ওঠার পথটি বরফে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় শত শত আরোহীর যাত্রা ব্যাহত হয়েছিল। ‘আইসফল ডক্টরস’ নামে পরিচিত উচ্চ-উচ্চতার বিশেষায়িত কর্মীরা ‘সেরাক’ নামের একটি বিশাল বরফখণ্ড অপসারণ করতে কয়েক সপ্তাহ ধরে কাজ করেন। গত ১৩ মে অবশেষে পথটি উন্মুক্ত করা হয়। তবে এই বিলম্বের কারণে আরোহীদের ভিড় জমে যায় এবং চূড়ায় ওঠার সময় কমে আসায় পর্বতটিতে অতিরিক্ত ভিড় ও জ্যামের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

উল্লেখ্য, নেপাল কর্তৃপক্ষ এই বছর এভারেস্ট জয়ের জন্য প্রায় ৫০০টি অনুমতিপত্র ইস্যু করেছে।