ঢাকা ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

এক দশক পর জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি বিএনপির: অঙ্গ সংগঠনগুলোতে তরুণ নেতৃত্ব আনার তোড়জোড়

বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পর পর জাতীয় কাউন্সিল করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও সর্বশেষ কাউন্সিল হয়েছিল ১০ বছর আগে, ২০১৬ সালের মার্চে। বর্তমানে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির ১৯টি পদের মধ্যে ৫টি পদই শূন্য রয়েছে। তাছাড়া সরকার গঠনের পর দলের অনেক শীর্ষ নেতা মন্ত্রী, সংসদ সদস্য বা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পাওয়ায় সাংগঠনিক কাজে আগের মতো সময় দিতে পারছেন না।

এই বাস্তবতায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাউন্সিল করার তাগিদ দিয়েছেন এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, চলতি বছরেই কাউন্সিল আয়োজনের জোরালো চিন্তাভাবনা চলছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ এক যুগ ধরে সম্মেলন না হওয়া শ্রমিক দল, ১০ বছর ধরে একই নেতৃত্বে থাকা মহিলা দল এবং আংশিক ও মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলকে ঢেলে সাজানোর প্রস্তুতি চলছে। বিশেষ করে সম্প্রতি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদলের পরাজয়ের পর সংগঠনটিতে নতুন ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের দাবি জোরালো হয়েছে।

দল পুনর্গঠনের এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে বর্তমানে বিএনপির ভেতরে প্রবীণ ও নবীনদের মধ্যে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। বর্তমানে নেতৃত্বে থাকা পুরোনো নেতারা যুক্তি দিচ্ছেন যে, দল ক্ষমতায় থাকায় তাঁদের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে, পদপ্রত্যাশী তরুণ তরুণীদের দাবি—বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় প্রতিপক্ষের অপপ্রচার ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে একদম ‘তরুণ-তাজা’ ও গতিশীল নেতৃত্ব সামনে আনা অপরিহার্য।

দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতিমধ্যে বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেছেন এবং নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে একটি জনমুখী ও কার্যকর নেতৃত্ব গড়ে তোলার স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। পদপ্রত্যাশী তরুণ নেতারা ইতিমধ্যে তাঁদের রাজনৈতিক জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) ও বিগত দিনের ত্যাগের ইতিহাস হাইকমান্ডের কাছে পৌঁছাতে জোর তৎপরতা শুরু করেছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ঈদুল আজহার পর পর-ই পর্যায়ক্রমে অঙ্গ সংগঠনগুলোর নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে, যা দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও হতাশা দূর করে দলে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদের প্রথম দিনেই সাভার ট্যানারিতে প্রবেশ করলো ২ লক্ষাধিক কাঁচা চামড়া

এক দশক পর জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি বিএনপির: অঙ্গ সংগঠনগুলোতে তরুণ নেতৃত্ব আনার তোড়জোড়

আপডেট সময় : ০২:০৮:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পর পর জাতীয় কাউন্সিল করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও সর্বশেষ কাউন্সিল হয়েছিল ১০ বছর আগে, ২০১৬ সালের মার্চে। বর্তমানে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির ১৯টি পদের মধ্যে ৫টি পদই শূন্য রয়েছে। তাছাড়া সরকার গঠনের পর দলের অনেক শীর্ষ নেতা মন্ত্রী, সংসদ সদস্য বা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পাওয়ায় সাংগঠনিক কাজে আগের মতো সময় দিতে পারছেন না।

এই বাস্তবতায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাউন্সিল করার তাগিদ দিয়েছেন এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, চলতি বছরেই কাউন্সিল আয়োজনের জোরালো চিন্তাভাবনা চলছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ এক যুগ ধরে সম্মেলন না হওয়া শ্রমিক দল, ১০ বছর ধরে একই নেতৃত্বে থাকা মহিলা দল এবং আংশিক ও মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলকে ঢেলে সাজানোর প্রস্তুতি চলছে। বিশেষ করে সম্প্রতি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদলের পরাজয়ের পর সংগঠনটিতে নতুন ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের দাবি জোরালো হয়েছে।

দল পুনর্গঠনের এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে বর্তমানে বিএনপির ভেতরে প্রবীণ ও নবীনদের মধ্যে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। বর্তমানে নেতৃত্বে থাকা পুরোনো নেতারা যুক্তি দিচ্ছেন যে, দল ক্ষমতায় থাকায় তাঁদের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে, পদপ্রত্যাশী তরুণ তরুণীদের দাবি—বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় প্রতিপক্ষের অপপ্রচার ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে একদম ‘তরুণ-তাজা’ ও গতিশীল নেতৃত্ব সামনে আনা অপরিহার্য।

দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতিমধ্যে বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেছেন এবং নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে একটি জনমুখী ও কার্যকর নেতৃত্ব গড়ে তোলার স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। পদপ্রত্যাশী তরুণ নেতারা ইতিমধ্যে তাঁদের রাজনৈতিক জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) ও বিগত দিনের ত্যাগের ইতিহাস হাইকমান্ডের কাছে পৌঁছাতে জোর তৎপরতা শুরু করেছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ঈদুল আজহার পর পর-ই পর্যায়ক্রমে অঙ্গ সংগঠনগুলোর নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে, যা দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও হতাশা দূর করে দলে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে।