ঢাকা ০৫:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

নামের ভুলে সাড়ে ৩ মাস কারাবাস: নির্দোষ মামুন মিয়াকে মুক্তি দিল আদালত

নাম এক হলেও ব্যক্তি ভিন্ন। এই ভুলেই ‘চেক ডিজঅনার’ মামলায় প্রায় সাড়ে তিন মাস কারাভোগ করতে হয়েছে নরসিংদীর শিবপুরের বাসিন্দা মামুন মিয়া নামের এক নিরীহ ব্যক্তিকে। অবশেষে আদালতের আদেশে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার, কেরানীগঞ্জ থেকে মুক্তি পেয়েছেন তিনি।

তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাদেকুল ইসলাম ভূঁইয়া জাদু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে ঢাকার যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মামুন মিয়াকে মুক্তির নির্দেশ দেন।

এই মামলায় আদালত তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, আসামিপক্ষ আবেদন করে জানায়, চেক ডিজঅনার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হাজতি মামুন মিয়া প্রকৃত আসামি নন। ‘মেসার্স পড়ন্ত বেলা পোল্ট্রি ফিড’-এর মালিকও তিনি নন।

এ বিষয়ে জটিলতা সৃষ্টি হলে আদালত নরসিংদীর শিবপুর মডেল থানাকে প্রকৃত আসামি শনাক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির হয়ে জবানবন্দিতে জানান, বর্তমানে কারাগারে থাকা মামুন মিয়া (পিতা. মৃত আলী আকবর) এই মামলার আসামি নন। প্রকৃত আসামি হলেন আরেক মামুন মিয়া, যার পিতা সুরুজ মিয়া। এরপর আদালত ভুল ব্যক্তির বিরুদ্ধে জারি হওয়া সাজা পরোয়ানা প্রত্যাহার করে তাকে মুক্তির নির্দেশ দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১৮ জুন ‘মেসার্স পড়ন্তবেলা পোল্ট্রি ফিড’-এর মালিক পরিচয়ে এক মামুন মিয়া প্রাইম ব্যাংকের শিবপুর শাখা থেকে ৩২ লাখ টাকার একটি চেক দেন। পরদিন চেকটি ‘অপর্যাপ্ত তহবিল’ উল্লেখ করে ডিজঅনার হয়। পরে একটি প্রতিষ্ঠান ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় মামলা করে। এই মামলায় আদালত একতরফা রায়ে আসামিকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩২ লাখ টাকা জরিমানা করেন। পরে ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে ভুল ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর আসামিপক্ষ দাবি করে, যিনি গ্রেফতার হয়েছেন তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব বা চেকের কোনো সম্পর্ক নেই। আদালতের নির্দেশে তদন্তে নামে শিবপুর মডেল থানা এবং তদন্তে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্যামনগরে অবৈধ বালু উত্তোলন: বাল্কহেড জব্দ, দুই কারাদণ্ড

নামের ভুলে সাড়ে ৩ মাস কারাবাস: নির্দোষ মামুন মিয়াকে মুক্তি দিল আদালত

আপডেট সময় : ১১:০২:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

নাম এক হলেও ব্যক্তি ভিন্ন। এই ভুলেই ‘চেক ডিজঅনার’ মামলায় প্রায় সাড়ে তিন মাস কারাভোগ করতে হয়েছে নরসিংদীর শিবপুরের বাসিন্দা মামুন মিয়া নামের এক নিরীহ ব্যক্তিকে। অবশেষে আদালতের আদেশে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার, কেরানীগঞ্জ থেকে মুক্তি পেয়েছেন তিনি।

তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাদেকুল ইসলাম ভূঁইয়া জাদু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে ঢাকার যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মামুন মিয়াকে মুক্তির নির্দেশ দেন।

এই মামলায় আদালত তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, আসামিপক্ষ আবেদন করে জানায়, চেক ডিজঅনার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হাজতি মামুন মিয়া প্রকৃত আসামি নন। ‘মেসার্স পড়ন্ত বেলা পোল্ট্রি ফিড’-এর মালিকও তিনি নন।

এ বিষয়ে জটিলতা সৃষ্টি হলে আদালত নরসিংদীর শিবপুর মডেল থানাকে প্রকৃত আসামি শনাক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির হয়ে জবানবন্দিতে জানান, বর্তমানে কারাগারে থাকা মামুন মিয়া (পিতা. মৃত আলী আকবর) এই মামলার আসামি নন। প্রকৃত আসামি হলেন আরেক মামুন মিয়া, যার পিতা সুরুজ মিয়া। এরপর আদালত ভুল ব্যক্তির বিরুদ্ধে জারি হওয়া সাজা পরোয়ানা প্রত্যাহার করে তাকে মুক্তির নির্দেশ দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১৮ জুন ‘মেসার্স পড়ন্তবেলা পোল্ট্রি ফিড’-এর মালিক পরিচয়ে এক মামুন মিয়া প্রাইম ব্যাংকের শিবপুর শাখা থেকে ৩২ লাখ টাকার একটি চেক দেন। পরদিন চেকটি ‘অপর্যাপ্ত তহবিল’ উল্লেখ করে ডিজঅনার হয়। পরে একটি প্রতিষ্ঠান ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় মামলা করে। এই মামলায় আদালত একতরফা রায়ে আসামিকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩২ লাখ টাকা জরিমানা করেন। পরে ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে ভুল ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর আসামিপক্ষ দাবি করে, যিনি গ্রেফতার হয়েছেন তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব বা চেকের কোনো সম্পর্ক নেই। আদালতের নির্দেশে তদন্তে নামে শিবপুর মডেল থানা এবং তদন্তে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হয়।