ঢাকা ০৫:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

তৃণমূল পর্যায়ে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতে গ্রাম আদালত জোরদারের তাগিদ

তৃণমূল জনগোষ্ঠীর জন্য দ্রুত, সহজ ও স্বল্প খরচে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গ্রাম আদালতের কার্যকারিতা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে আইনি সহায়তা সম্প্রসারিত হলে সাধারণ মানুষ কম সময়ে ও কম খরচে বিচার পাবেন এবং অপ্রয়োজনীয় আর্থিক ও মানসিক ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন।

সম্প্রতি একটি মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের জেলা তথ্য কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত ‘গ্রাম আদালত সক্রিয়করণে প্রচার কার্যক্রম’ বিষয়ক এই সভায় বক্তারা গ্রাম আদালতের গুরুত্ব তুলে ধরেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন গণযোগাযোগ অধিদফতরের মহাপরিচালক।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, গ্রাম আদালত বর্তমানে গ্রামীণ জনগণের জন্য একটি কার্যকর বিচারব্যবস্থা হিসেবে গড়ে উঠছে। বিশেষ করে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ নিষ্পত্তিতে এই আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আইনজীবী ছাড়াই বিচারপ্রক্রিয়া পরিচালিত হওয়ায় সাধারণ মানুষ সহজে বিচারসেবা পাচ্ছেন। এতে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় সামাজিক সম্প্রীতিও বজায় থাকছে।

সভায় জানানো হয়, দরিদ্র জনগোষ্ঠী, নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ গ্রাম আদালতের মাধ্যমে তুলনামূলক সহজে ন্যায়বিচার পাচ্ছেন। চুরি, প্রতারণা, দাঙ্গা, ঝগড়া-বিবাদ, হুমকি, বাল্যবিবাহ, নারীর প্রতি সহিংসতা, তালাক ও অভিভাবকত্বসহ বিভিন্ন বিষয়ে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে সমাধান সম্ভব বলেও মত দেন বক্তারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে একজন অতিরিক্ত সচিব বলেন, গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে গ্রামের মানুষ আরও বেশি উপকৃত হবেন। তিনি সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আইনি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেন এবং এক্ষেত্রে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের ভূমিকাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি গ্রাম আদালত বিষয়ক কার্যক্রম জোরদারে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্যামনগরে অবৈধ বালু উত্তোলন: বাল্কহেড জব্দ, দুই কারাদণ্ড

তৃণমূল পর্যায়ে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতে গ্রাম আদালত জোরদারের তাগিদ

আপডেট সময় : ০৮:৫২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

তৃণমূল জনগোষ্ঠীর জন্য দ্রুত, সহজ ও স্বল্প খরচে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গ্রাম আদালতের কার্যকারিতা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে আইনি সহায়তা সম্প্রসারিত হলে সাধারণ মানুষ কম সময়ে ও কম খরচে বিচার পাবেন এবং অপ্রয়োজনীয় আর্থিক ও মানসিক ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন।

সম্প্রতি একটি মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের জেলা তথ্য কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত ‘গ্রাম আদালত সক্রিয়করণে প্রচার কার্যক্রম’ বিষয়ক এই সভায় বক্তারা গ্রাম আদালতের গুরুত্ব তুলে ধরেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন গণযোগাযোগ অধিদফতরের মহাপরিচালক।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, গ্রাম আদালত বর্তমানে গ্রামীণ জনগণের জন্য একটি কার্যকর বিচারব্যবস্থা হিসেবে গড়ে উঠছে। বিশেষ করে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ নিষ্পত্তিতে এই আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আইনজীবী ছাড়াই বিচারপ্রক্রিয়া পরিচালিত হওয়ায় সাধারণ মানুষ সহজে বিচারসেবা পাচ্ছেন। এতে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় সামাজিক সম্প্রীতিও বজায় থাকছে।

সভায় জানানো হয়, দরিদ্র জনগোষ্ঠী, নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ গ্রাম আদালতের মাধ্যমে তুলনামূলক সহজে ন্যায়বিচার পাচ্ছেন। চুরি, প্রতারণা, দাঙ্গা, ঝগড়া-বিবাদ, হুমকি, বাল্যবিবাহ, নারীর প্রতি সহিংসতা, তালাক ও অভিভাবকত্বসহ বিভিন্ন বিষয়ে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে সমাধান সম্ভব বলেও মত দেন বক্তারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে একজন অতিরিক্ত সচিব বলেন, গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে গ্রামের মানুষ আরও বেশি উপকৃত হবেন। তিনি সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আইনি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেন এবং এক্ষেত্রে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের ভূমিকাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি গ্রাম আদালত বিষয়ক কার্যক্রম জোরদারে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।