খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের পর রোগীদের স্থানান্তরের সময় আতঙ্কে একজন আইসিইউ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। আগুন থেকে বাঁচতে লাফিয়ে পড়ে এবং তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে নার্সসহ পাঁচ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (১৭ মে) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হাসপাতালের চারতলা ভবনের তৃতীয় তলায় আগুন লাগে। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর কয়েকটি অক্সিজেন সিলিন্ডার ও পুরনো এসি বিস্ফোরিত হয়। এতে দেয়ালের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পুরো এলাকায় ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।
মারা যাওয়া রোগী নাসরিন নাহার (৬০) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি খুলনার কয়রা উপজেলার নেছার আলীর মেয়ে।
আহতরা হলেন– হাসপাতালের স্টাফ সাইদুর রহমান (৫০), সিনিয়র স্টাফ নার্স নওরিন, দিপালী ও শারমিন। অগ্নিনির্বাপণ কাজে অংশ নেওয়া ফায়ার সার্ভিসের একজন সদস্য তৌহিদও আহত হয়েছেন।
হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ দিলীপ কুমার বলেন, ‘পুরনো আইসিইউ ভবনের পাশের একটি কক্ষে আগুন লাগে। সেখানে পুরনো কাপড় ও কিছু সরঞ্জাম রাখা ছিল। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর কয়েকটি অক্সিজেন সিলিন্ডার ও পুরনো এসি বিস্ফোরিত হয়। এতে দেয়ালের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পুরো এলাকায় ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়ার মধ্যে আমরা রোগীদের স্থানান্তর করছিলাম। এ সময় আতঙ্কিত হয়ে নাসরিন নাহার নামে রোগীর স্বজনরা তাকে নিজেরাই সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। বাইরে নেওয়ার পর সেই রোগী মারা যান। আইসিইউ থেকে রোগী স্থানান্তরের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া আছে। ভেন্টিলেশন খুলে নিজেদের মতো করে স্থানান্তরের চেষ্টার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।’
জানা গেছে, ভোরে হাসপাতালে আগুন লাগার সময় রোগী ও তাদের স্বজনরা ঘুমিয়ে ছিলেন। ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে পুরো হাসপাতাল এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিস্ফোরণের শব্দে অনেক রোগী ও তাদের স্বজনরা শয্যা ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। হাসপাতালের সামনের মাঠ ও সড়কে ভিড় জমে যায়। সে সময় ভয়ে ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা মাসুদ জানিয়েছেন, বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে তদন্ত চলছে।
রিপোর্টারের নাম 



















