ঢাকা ০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

বড় পর্দায় জীবনানন্দ দাশের ‘বনলতা সেন’: প্রথম ঝলকেই কাব্যিক মুগ্ধতা

বাংলা সাহিত্যের অমর সৃষ্টি ‘বনলতা সেন’ পড়েননি বা শোনেননি, এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া দায়। হাজার বছর ধরে পথ হাঁটা সেই ক্লান্ত পথিকের চোখে শান্তির নীড় খোঁজার গল্প এবার বড় পর্দায় নিয়ে আসছেন নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বল। সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে সিনেমাটির প্রথম আনুষ্ঠানিক টিজার। মাত্র ৫৪ সেকেন্ডের এই সংক্ষিপ্ত ঝলক যেন কোনো চলচ্চিত্রের চেনা ঘরানার টিজার নয়, বরং ক্যামেরার লেন্সে আঁকা এক টুকরো জীবন্ত কবিতা; যা দর্শকদের মনে এক গভীর কৌতূহল ও মুগ্ধতা তৈরি করে।

টিজারটির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো এর ভিজ্যুয়াল মেটাফর বা রূপক দৃশ্যায়ন। ধূসর, জনমানবহীন এক মরুভূমি বা বালুকাময় প্রান্তরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য বই এবং খাতা-পত্র। এই ছড়ানো পাতাগুলো যেন মনে করিয়ে দেয় কবির জীবদ্দশায় অবহেলায় পড়ে থাকা তাঁর কালজয়ী সৃষ্টি ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’র কথা। সাহিত্যের এই চাদরের ওপর বসে আছেন এক নারী, যাঁর পরনে লাল শাড়ি—তিনিই কি সেই বনলতা সেন, যার কাছে দু’ দণ্ড শান্তি পেয়েছিলেন তিনি?

হ্যাঁ, সেই দীঘল চুল, যা দেখে কবি বনলতা সেন কবিতায় লিখেছিলেন—‘চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিষার নিশা’। তাঁর সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন একজন সাদা পোশাকের পুরুষ— তিনি রূপসী বাংলার কবি স্বয়ং। যেন হাজার বছর হেঁটে চলা সেই জীবনানন্দ দাশ দেখা দিলেন মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের ফ্রেমে।

এখানেই শেষ নয়, টিজারে দেখা মেলে এক রহস্যময় চরিত্রের, যিনি পরম যত্নে চারপাশ থেকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কাগজগুলো কুড়িয়ে নিচ্ছেন আর তাকিয়ে আছেন জীবনানন্দ ও বনলতার হেঁটে চলার দিকে। এই চরিত্রটি কি তবে আধুনিক বাংলা কবিতার প্রধান পৃষ্ঠপোষক বুদ্ধদেব বসু? যিনি না থাকলে হয়তো আমরা জীবনানন্দ দাশের এই সৃষ্টিজগতকে কোনোদিন জানতেই পারতাম না! পুরো দৃশ্যটি যেন জীবনের এক দীর্ঘ পথচলা, একাকীত্ব এবং সাহিত্যের গভীর ইতিহাসকে এক সুতোয় বেঁধেছে। সিনেমাটোগ্রাফির ফ্রেমিং এবং কালার গ্রেডিং এতটাই নিখুঁত যে প্রতিটি ফ্রেমকে একেকটি চিত্রকর্মের মতো মনে হয়।

টিজারের আরেকটি অসাধারণ দিক হলো এর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক বা আবহ সঙ্গীত। কোনো সংলাপ ছাড়াই, কেবল একটি বাঁশি বা তারের যন্ত্রণাদার্থ ও প্রশান্তিময় সুর পুরো টিজার জুড়ে এক রহস্যময় ও আবেগী পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে। সুরটি দর্শককে এক লহমায় বর্তমান সময় থেকে দূরে, কোনো এক অতীতে বা এক অন্য জগতে নিয়ে যায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের ইউরেনিয়াম জব্দে মার্কিন গোপন সামরিক অভিযান স্থগিত করলেন ট্রাম্প

বড় পর্দায় জীবনানন্দ দাশের ‘বনলতা সেন’: প্রথম ঝলকেই কাব্যিক মুগ্ধতা

আপডেট সময় : ১২:১৪:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

বাংলা সাহিত্যের অমর সৃষ্টি ‘বনলতা সেন’ পড়েননি বা শোনেননি, এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া দায়। হাজার বছর ধরে পথ হাঁটা সেই ক্লান্ত পথিকের চোখে শান্তির নীড় খোঁজার গল্প এবার বড় পর্দায় নিয়ে আসছেন নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বল। সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে সিনেমাটির প্রথম আনুষ্ঠানিক টিজার। মাত্র ৫৪ সেকেন্ডের এই সংক্ষিপ্ত ঝলক যেন কোনো চলচ্চিত্রের চেনা ঘরানার টিজার নয়, বরং ক্যামেরার লেন্সে আঁকা এক টুকরো জীবন্ত কবিতা; যা দর্শকদের মনে এক গভীর কৌতূহল ও মুগ্ধতা তৈরি করে।

টিজারটির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো এর ভিজ্যুয়াল মেটাফর বা রূপক দৃশ্যায়ন। ধূসর, জনমানবহীন এক মরুভূমি বা বালুকাময় প্রান্তরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য বই এবং খাতা-পত্র। এই ছড়ানো পাতাগুলো যেন মনে করিয়ে দেয় কবির জীবদ্দশায় অবহেলায় পড়ে থাকা তাঁর কালজয়ী সৃষ্টি ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’র কথা। সাহিত্যের এই চাদরের ওপর বসে আছেন এক নারী, যাঁর পরনে লাল শাড়ি—তিনিই কি সেই বনলতা সেন, যার কাছে দু’ দণ্ড শান্তি পেয়েছিলেন তিনি?

হ্যাঁ, সেই দীঘল চুল, যা দেখে কবি বনলতা সেন কবিতায় লিখেছিলেন—‘চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিষার নিশা’। তাঁর সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন একজন সাদা পোশাকের পুরুষ— তিনি রূপসী বাংলার কবি স্বয়ং। যেন হাজার বছর হেঁটে চলা সেই জীবনানন্দ দাশ দেখা দিলেন মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের ফ্রেমে।

এখানেই শেষ নয়, টিজারে দেখা মেলে এক রহস্যময় চরিত্রের, যিনি পরম যত্নে চারপাশ থেকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কাগজগুলো কুড়িয়ে নিচ্ছেন আর তাকিয়ে আছেন জীবনানন্দ ও বনলতার হেঁটে চলার দিকে। এই চরিত্রটি কি তবে আধুনিক বাংলা কবিতার প্রধান পৃষ্ঠপোষক বুদ্ধদেব বসু? যিনি না থাকলে হয়তো আমরা জীবনানন্দ দাশের এই সৃষ্টিজগতকে কোনোদিন জানতেই পারতাম না! পুরো দৃশ্যটি যেন জীবনের এক দীর্ঘ পথচলা, একাকীত্ব এবং সাহিত্যের গভীর ইতিহাসকে এক সুতোয় বেঁধেছে। সিনেমাটোগ্রাফির ফ্রেমিং এবং কালার গ্রেডিং এতটাই নিখুঁত যে প্রতিটি ফ্রেমকে একেকটি চিত্রকর্মের মতো মনে হয়।

টিজারের আরেকটি অসাধারণ দিক হলো এর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক বা আবহ সঙ্গীত। কোনো সংলাপ ছাড়াই, কেবল একটি বাঁশি বা তারের যন্ত্রণাদার্থ ও প্রশান্তিময় সুর পুরো টিজার জুড়ে এক রহস্যময় ও আবেগী পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে। সুরটি দর্শককে এক লহমায় বর্তমান সময় থেকে দূরে, কোনো এক অতীতে বা এক অন্য জগতে নিয়ে যায়।