ঢাকা ০৭:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

দেশের ব্যাংকিং খাত গভীর সংকটে: আস্থার সংকট কাটাতে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত জরুরি

দেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে এক গভীর সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। বাহ্যিকভাবে নতুন শাখা, ডিজিটাল ব্যাংকিং, মোবাইল অ্যাপ এবং আমানতের প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও ভেতরে জমেছে অস্বস্তি, অনিশ্চয়তা ও আস্থাহীনতা। খেলাপি ঋণের বিস্তার, রাজনৈতিক প্রভাব, পরিচালনা পর্ষদের অনিয়ম, দুর্বল তদারকি, তারল্য সংকট, উচ্চ সুদহার এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ—সব মিলিয়ে দেশের আর্থিক খাতের ভিত্তি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।

অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার ও নীতিনির্ধারকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, এখন সময় এসেছে একটি কঠোর অথচ যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার। তাদের মতে, ব্যাংক খাতে প্রকৃত সুশাসন প্রতিষ্ঠা, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা গেলে পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থার চিত্র আমূল বদলে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় সংকট এখন অর্থের নয়, বরং আস্থার। গত এক দশকে দেশের ব্যাংক খাতে এমন এক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে যেখানে প্রভাবশালী গোষ্ঠী ও বড় ব্যবসায়ীরা হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়ে বছরের পর বছর তা ফেরত না দিয়েও পার পেয়ে গেছেন। পুনঃতফসিল, বিশেষ ছাড়, আদালতের স্থগিতাদেশ কিংবা নীতিগত সুবিধা ব্যবহার করে অনেকেই দায় এড়িয়ে গেছেন, অন্যদিকে সৎ উদ্যোক্তারা ঋণ পেতে হিমশিম খেয়েছেন। কিছু ব্যাংকে আমানতকারীরা নিজেদের জমানো টাকা তুলতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন, কোথাও চেক ফেরত গেছে, কোথাও সীমিত পরিমাণে টাকা উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংক শুধু একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি পুরো অর্থনীতির রক্তসঞ্চালন ব্যবস্থা। ব্যাংক দুর্বল হয়ে পড়লে শিল্প, ব্যবসা, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ—সবকিছুতেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ফলে ব্যাংকিং খাতের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে অর্থনীতির সামগ্রিক স্থিতিশীলতাও ঝুঁকির মুখে পড়ে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক ধরে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় ব্যাংক খাতে নানা অনিয়ম ও লুটপাটের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিছু গোষ্ঠী ব্যাংকের মালিকানা দখল করে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে চাপ দিয়ে টাকা ছাপানোর সুযোগ নিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে, পরে সেই অর্থের বড় অংশ বিদেশে পাচার হয়েছে বলে বিভিন্ন তদন্তে উঠে এসেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তিস্তা মহাপরিকল্পনায় বদলে যাবে উত্তরবঙ্গের ভাগ্য, স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস পানি সম্পদ মন্ত্রীর

দেশের ব্যাংকিং খাত গভীর সংকটে: আস্থার সংকট কাটাতে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত জরুরি

আপডেট সময় : ০৮:৫৭:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

দেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে এক গভীর সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। বাহ্যিকভাবে নতুন শাখা, ডিজিটাল ব্যাংকিং, মোবাইল অ্যাপ এবং আমানতের প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও ভেতরে জমেছে অস্বস্তি, অনিশ্চয়তা ও আস্থাহীনতা। খেলাপি ঋণের বিস্তার, রাজনৈতিক প্রভাব, পরিচালনা পর্ষদের অনিয়ম, দুর্বল তদারকি, তারল্য সংকট, উচ্চ সুদহার এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ—সব মিলিয়ে দেশের আর্থিক খাতের ভিত্তি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।

অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার ও নীতিনির্ধারকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, এখন সময় এসেছে একটি কঠোর অথচ যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার। তাদের মতে, ব্যাংক খাতে প্রকৃত সুশাসন প্রতিষ্ঠা, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা গেলে পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থার চিত্র আমূল বদলে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় সংকট এখন অর্থের নয়, বরং আস্থার। গত এক দশকে দেশের ব্যাংক খাতে এমন এক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে যেখানে প্রভাবশালী গোষ্ঠী ও বড় ব্যবসায়ীরা হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়ে বছরের পর বছর তা ফেরত না দিয়েও পার পেয়ে গেছেন। পুনঃতফসিল, বিশেষ ছাড়, আদালতের স্থগিতাদেশ কিংবা নীতিগত সুবিধা ব্যবহার করে অনেকেই দায় এড়িয়ে গেছেন, অন্যদিকে সৎ উদ্যোক্তারা ঋণ পেতে হিমশিম খেয়েছেন। কিছু ব্যাংকে আমানতকারীরা নিজেদের জমানো টাকা তুলতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন, কোথাও চেক ফেরত গেছে, কোথাও সীমিত পরিমাণে টাকা উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংক শুধু একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি পুরো অর্থনীতির রক্তসঞ্চালন ব্যবস্থা। ব্যাংক দুর্বল হয়ে পড়লে শিল্প, ব্যবসা, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ—সবকিছুতেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ফলে ব্যাংকিং খাতের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে অর্থনীতির সামগ্রিক স্থিতিশীলতাও ঝুঁকির মুখে পড়ে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক ধরে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় ব্যাংক খাতে নানা অনিয়ম ও লুটপাটের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিছু গোষ্ঠী ব্যাংকের মালিকানা দখল করে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে চাপ দিয়ে টাকা ছাপানোর সুযোগ নিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে, পরে সেই অর্থের বড় অংশ বিদেশে পাচার হয়েছে বলে বিভিন্ন তদন্তে উঠে এসেছে।