কক্সবাজারের উখিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক বিএনপি সমর্থকের পোস্ট এবং এতে দেওয়া ‘হা হা’ রিয়েক্টকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘর্ষে এক নারী নিহত হয়েছেন। শনিবার রাতে উপজেলা সদরের টাইপালং এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত সৈয়দা খাতুন (৫০) ওই এলাকার বাসিন্দা সব্বির আহমেদের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার একটি মাদ্রাসায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের দেয়াল লিখন নিয়ে স্থানীয় বিএনপি সমর্থক আকাশ ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন। সেই পোস্টে স্থানীয় এক যুবক ‘হা হা’ রিয়েক্ট দিলে আকাশ কারণ জানতে চান। যুবক দাবি করেন, তিনি নন, তার স্ত্রী ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি ব্যবহার করেন।
এই ঘটনার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই যুবকের দুঃসম্পর্কের খালা সৈয়দা খাতুন আহত হন। একই সময়ে ওই যুবককে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে হাসপাতালে সৈয়দা খাতুনকে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ছেলে ইমরান জানান, তিনি এবং তার বন্ধু ইউনুস (পুলিশ হেফাজতে থাকা যুবক) একটি দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহিম ও তার ছেলে আকাশ, বিএনপি নেতা মিজান সিকদার ও তার ছেলে জিসান সিকদার, শ্রমিকদল নেতা সাইফুল সিকদারসহ ১০-১২ জন তাদের মারধর করে। একপর্যায়ে তার মা ছুটে এসে তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তার মাকেও মারধর করে। তিনি জড়িতদের বিচার দাবি করেন এবং জানান, তারা কোনো রাজনীতিতে জড়িত নন।
অন্যদিকে, ঘটনার পরপরই সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি নেতা মিজান সিকদার ও তার ছেলে জিসান সিকদার দাবি করেন, তারা ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন না এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত তাদের ফাঁসানো হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন তারা।
স্থানীয়দের মতে, গত কয়েকদিন ধরে টাইপালংয়ের একটি মাদ্রাসার দেয়ালে ‘জয়বাংলা’ স্লোগান লেখাকে কেন্দ্র করে থানায় করা অভিযোগের ভিত্তিতে দুটি পক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে অপরের বিরুদ্ধে লেখালেখি করে আসছিল।
রিপোর্টারের নাম 





















