ঢাকা ১০:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

শাহ আলী মাজারে হামলা: তিন আসামি রিমান্ডে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি

রাজধানীর মিরপুরে হযরত শাহ আলী (র.) মাজারে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিন আসামিকে দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার, ১৭ মে, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এই আদেশ দেন।

রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন মো. আজম, শেখ মো. সাজ্জাদুল হক রাসেল এবং আরমান দেওয়ান। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই গৌতম সরকার।

গত বৃহস্পতিবার রাতে মিরপুরের শাহ আলী মাজারে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ওরশ চলাকালীন কিছু লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী এক মাজারভক্ত নারী শনিবার, ১৬ মে, একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর পুলিশ ওই রাতেই শাহ আলী থানার উত্তর বিশিল এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। রবিবার তাদের আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলী থানার পরিদর্শক তারিকুর রহমান। আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. কামাল উদ্দিন রিমান্ড বাতিল করে জামিনের প্রার্থনা করেন।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে যে, বৃহস্পতিবার রাতে মাজার জিয়ারত ও মানত করার সময় অভিযুক্তরা দলবদ্ধভাবে লাঠিসোঁটা নিয়ে জিয়ারতকারী ও মানতকারীদের ওপর হামলা চালায়। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরাসহ অজ্ঞাত প্রায় ১০০-১৫০ জন জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের সদস্য পূর্বপরিকল্পিতভাবে ‘আল্লাহু আকবার’ স্লোগান দিয়ে প্রধান গেট দিয়ে মাজারে প্রবেশ করে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, হামলার সময় জিয়ারতকারী ও মানতকারীদের ওপর অতর্কিত হামলা করে আহত করা হয়। মাজারের সিন্নি গাছের গোড়ায় থাকা লাল কাপড় টানা-হেঁচড়া করে ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং মোমবাতি জ্বালানোর প্লেটও ভাঙচুর করা হয়।

বাদীপক্ষের অভিযোগ, ঘটনার সময় বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করে আহত করে। বাদীর কাপড়চোপড় টানা-হেঁচড়া করে যৌন নির্যাতনেরও অভিযোগ আনা হয়েছে।

মারপিটের এক পর্যায়ে অজ্ঞাত একজন হামলাকারী মাজারের মানতের খিচুড়ি রান্নার চুলা ও পাতিল ভাঙচুর করে আনুমানিক ৩০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে। একইসঙ্গে বাদীর কাছ থেকে নগদ ৬ হাজার টাকা এবং অন্যান্য জিয়ারতকারীদের কাছ থেকে আনুমানিক ৯০ হাজার টাকা লুট করে নেওয়া হয়।

হামলার এক পর্যায়ে মাজারের উপস্থিত জিয়ারতকারী, মানতকারী এবং ভক্তরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে হামলাকারীরা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে পালিয়ে যায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের জব্দ করা ২৪ বিলিয়ন ডলার সম্পদ মুক্ত করার সবুজ সংকেত ট্রাম্পের

শাহ আলী মাজারে হামলা: তিন আসামি রিমান্ডে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি

আপডেট সময় : ০৯:৫০:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

রাজধানীর মিরপুরে হযরত শাহ আলী (র.) মাজারে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিন আসামিকে দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার, ১৭ মে, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এই আদেশ দেন।

রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন মো. আজম, শেখ মো. সাজ্জাদুল হক রাসেল এবং আরমান দেওয়ান। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই গৌতম সরকার।

গত বৃহস্পতিবার রাতে মিরপুরের শাহ আলী মাজারে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ওরশ চলাকালীন কিছু লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী এক মাজারভক্ত নারী শনিবার, ১৬ মে, একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর পুলিশ ওই রাতেই শাহ আলী থানার উত্তর বিশিল এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। রবিবার তাদের আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলী থানার পরিদর্শক তারিকুর রহমান। আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. কামাল উদ্দিন রিমান্ড বাতিল করে জামিনের প্রার্থনা করেন।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে যে, বৃহস্পতিবার রাতে মাজার জিয়ারত ও মানত করার সময় অভিযুক্তরা দলবদ্ধভাবে লাঠিসোঁটা নিয়ে জিয়ারতকারী ও মানতকারীদের ওপর হামলা চালায়। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরাসহ অজ্ঞাত প্রায় ১০০-১৫০ জন জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের সদস্য পূর্বপরিকল্পিতভাবে ‘আল্লাহু আকবার’ স্লোগান দিয়ে প্রধান গেট দিয়ে মাজারে প্রবেশ করে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, হামলার সময় জিয়ারতকারী ও মানতকারীদের ওপর অতর্কিত হামলা করে আহত করা হয়। মাজারের সিন্নি গাছের গোড়ায় থাকা লাল কাপড় টানা-হেঁচড়া করে ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং মোমবাতি জ্বালানোর প্লেটও ভাঙচুর করা হয়।

বাদীপক্ষের অভিযোগ, ঘটনার সময় বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করে আহত করে। বাদীর কাপড়চোপড় টানা-হেঁচড়া করে যৌন নির্যাতনেরও অভিযোগ আনা হয়েছে।

মারপিটের এক পর্যায়ে অজ্ঞাত একজন হামলাকারী মাজারের মানতের খিচুড়ি রান্নার চুলা ও পাতিল ভাঙচুর করে আনুমানিক ৩০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে। একইসঙ্গে বাদীর কাছ থেকে নগদ ৬ হাজার টাকা এবং অন্যান্য জিয়ারতকারীদের কাছ থেকে আনুমানিক ৯০ হাজার টাকা লুট করে নেওয়া হয়।

হামলার এক পর্যায়ে মাজারের উপস্থিত জিয়ারতকারী, মানতকারী এবং ভক্তরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে হামলাকারীরা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে পালিয়ে যায়।