ঢাকা ১২:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

ফারাক্কা বাঁধের অভিশাপ: পানিশূন্য দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদ-নদী এখন কেবলই বালুচর

বাংলাদেশের নদীমাতৃক ঐতিহ্যের ওপর ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাব এখন দৃশ্যমান। একসময়ের উত্তাল ও প্রমত্তা নদীগুলো আজ পানিশূন্য হয়ে ধু-ধু বালুচরে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোর অবস্থা অত্যন্ত করুণ। অনেক স্থানে বিশাল সব সেতুর নিচে এখন আর পানির দেখা মেলে না, সেখানে ঠাঁই নিয়েছে আগাছা আর বালুর স্তূপ।

১৯৭৫ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে গঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে বাংলাদেশের গঙ্গা-পদ্মা বিধৌত অঞ্চলগুলোতে পানির প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। এর ফলে গড়াই, মধুমতী, ভৈরব, কপোতাক্ষ ও চিত্রার মতো গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলো ধীরে ধীরে তাদের নাব্যতা হারিয়েছে। একসময় যা ছিল মানুষের জীবন-জীবিকার প্রধান উৎস, আজ তা কেবলই শুষ্ক মৌসুমে পায়ে হাঁটা পথে পরিণত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গড়াই নদী ছিল এই অঞ্চলের ‘মাদার চ্যানেল’, যা দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যান্য নদী প্রাণ পেত। কিন্তু ফারাক্কার প্রভাবে পদ্মার পানি কমে যাওয়ায় গড়াইয়ের মুখে পলি জমে এর প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে কপোতাক্ষের মতো ঐতিহাসিক নদীগুলো আজ অস্তিত্ব সংকটে। কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত সেই কপোতাক্ষ এখন অনেক জায়গায় কেবল একটি সরু খালে রূপ নিয়েছে।

নদী শুকিয়ে যাওয়ার ফলে এই অঞ্চলের কৃষি, মৎস্য সম্পদ এবং পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। নদীর বুক দখল করে গড়ে উঠছে ইটভাটা ও বালু ব্যবসা। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে অদূর ভবিষ্যতে এই জনপদ এক ভয়াবহ মরুপ্রক্রিয়ার সম্মুখীন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সামরিক অভিযানের শার্পনেলে প্রাণ হারালেন কাতারি নাগরিক, নিখোঁজ নৌযান উদ্ধার

ফারাক্কা বাঁধের অভিশাপ: পানিশূন্য দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদ-নদী এখন কেবলই বালুচর

আপডেট সময় : ১১:৪৪:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

বাংলাদেশের নদীমাতৃক ঐতিহ্যের ওপর ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাব এখন দৃশ্যমান। একসময়ের উত্তাল ও প্রমত্তা নদীগুলো আজ পানিশূন্য হয়ে ধু-ধু বালুচরে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোর অবস্থা অত্যন্ত করুণ। অনেক স্থানে বিশাল সব সেতুর নিচে এখন আর পানির দেখা মেলে না, সেখানে ঠাঁই নিয়েছে আগাছা আর বালুর স্তূপ।

১৯৭৫ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে গঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে বাংলাদেশের গঙ্গা-পদ্মা বিধৌত অঞ্চলগুলোতে পানির প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। এর ফলে গড়াই, মধুমতী, ভৈরব, কপোতাক্ষ ও চিত্রার মতো গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলো ধীরে ধীরে তাদের নাব্যতা হারিয়েছে। একসময় যা ছিল মানুষের জীবন-জীবিকার প্রধান উৎস, আজ তা কেবলই শুষ্ক মৌসুমে পায়ে হাঁটা পথে পরিণত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গড়াই নদী ছিল এই অঞ্চলের ‘মাদার চ্যানেল’, যা দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যান্য নদী প্রাণ পেত। কিন্তু ফারাক্কার প্রভাবে পদ্মার পানি কমে যাওয়ায় গড়াইয়ের মুখে পলি জমে এর প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে কপোতাক্ষের মতো ঐতিহাসিক নদীগুলো আজ অস্তিত্ব সংকটে। কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত সেই কপোতাক্ষ এখন অনেক জায়গায় কেবল একটি সরু খালে রূপ নিয়েছে।

নদী শুকিয়ে যাওয়ার ফলে এই অঞ্চলের কৃষি, মৎস্য সম্পদ এবং পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। নদীর বুক দখল করে গড়ে উঠছে ইটভাটা ও বালু ব্যবসা। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে অদূর ভবিষ্যতে এই জনপদ এক ভয়াবহ মরুপ্রক্রিয়ার সম্মুখীন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।