প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দুর্নীতি, অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি ঘোষণা করেছেন। সরকার এবং দলের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে তিনি তাঁর নিজের দলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের (এমপি) ওপর কড়া নজরদারি শুরু করেছেন। এই নজরদারির মূল লক্ষ্য হলো অপরাধীকে দলীয় পরিচয় না দেখে কেবল অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা এবং দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। গত ১০ মে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত এক যৌথ মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনো অন্যায়ের সুযোগ কাউকেই দেওয়া হবে না এবং মন্ত্রী-এমপিদের শুধু সরকারের উচ্চপর্যায়েই নয়, বরং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছেও জবাবদিহি করতে হবে।
এই জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকার ও দলের পক্ষ থেকে বেশ কিছু বিশেষ প্রক্রিয়া ও কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে প্রতি তিন মাস পর পর বিশেষ মূল্যায়ন সভার আয়োজন করা হবে। এই সভাগুলোর মাধ্যমে মন্ত্রীদের কাজের অগ্রগতি ও তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগগুলো সরাসরি সামনে আনা হবে, পাশাপাশি সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগগুলোও দলীয় কর্মীদের কাছে তুলে ধরা হবে। সরকারি উচ্চপর্যায়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, মন্ত্রী-এমপিদের কার্যক্রম তদারকি করতে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও গোয়েন্দা সংস্থাকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ কর্মকাণ্ডের গোপন আমলনামা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জমা পড়েছে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকগুলোতেও এখন জনপ্রতিনিধিদের ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ এবং সংসদ সদস্য শাহাদাৎ হোসেন সেলিম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর তদারকির কারণে এখন প্রত্যেকেই যে কোনো কাজ করার আগে চরম সতর্কতা অবলম্বন করছেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থানকে রাজনৈতিক অঙ্গন ও বিশ্লেষকরা ইতিবাচকভাবে নিলেও এর শতভাগ বাস্তবায়ন নিয়ে কিছুটা সন্দিহান। বামপন্থী রাজনৈতিক দল বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক অতীতের অভিজ্ঞতা টেনে বলেছেন যে, অতীতেও সব সরকার শুরুতে এমন সুন্দর সুন্দর হুঁশিয়ারি দিলেও পরে নিজেদের দলীয় লোকদের ক্ষেত্রে তা কার্যকর করেনি। তাঁরা মনে করেন, বর্তমান সরকার যদি সত্যিই সুশাসন চায়, তবে ভালো কাজ নিজের ঘর থেকেই শুরু করতে হবে এবং প্রতি বছর মন্ত্রী-এমপিদের সম্পদের হিসাব নেওয়া উচিত। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান কিছু দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও কয়েকজন মন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিতর্কিত আচরণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কিছুটা সমালোচনা তৈরি হয়েছে। তবে যেহেতু নতুন সরকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ছয় মাস সময় চেয়েছে, তাই রাজনৈতিক দলগুলো এখনই কোনো চূড়ান্ত আন্দোলনে না গিয়ে সরকারকে আরও কিছুদিন পর্যবেক্ষণ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























