ঢাকা ০২:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় নিঃস্ব হওয়া সেই ইমাম এখন মানসিক হাসপাতালে

ফেনীর আলোচিত ইমাম মাওলানা মুজাফফর আহমদ জুবায়ের, যিনি একটি মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় জড়িয়ে দীর্ঘ সময় কারাভোগ করেছিলেন, তিনি এখন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ডিএনএ পরীক্ষায় নির্দোষ প্রমাণিত হলেও দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই, সামাজিক অবমাননা এবং আর্থিক ক্ষতির মানসিক আঘাত সইতে না পেরে তিনি এই অবস্থায় পৌঁছেছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কারাগারে থাকাকালীন চরম হতাশায় তিনি আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন। সম্প্রতি ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে অবস্থানকালে তিনি হঠাৎ উগ্র আচরণ শুরু করেন এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে আদাবরের একটি বিশেষায়িত মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

২০১৯ সালে ফেনীর পরশুরামে দায়ের করা একটি মামলায় ২০২৪ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ৩২ দিন জেল খাটার পর ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওই ঘটনার সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তবে এই সময়ের মধ্যে তিনি তার মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারান। মামলার খরচ চালাতে গিয়ে তাকে বিক্রি করতে হয়েছে পৈতৃক সম্পত্তিও।

অসুস্থ হওয়ার কিছুদিন আগে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আক্ষেপ করে বলেছিলেন, বিনা নোটিশে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং সামাজিকভাবে তাকে একঘরে করে দেওয়া হয়েছে। তিনি তার হারানো চাকরি ফিরে পাওয়া, বকেয়া বেতন এবং মিথ্যা মামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিলেন। বর্তমানে তার এই সংকটের দিনে বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সাইদুল আশরাফ কুশল তাকে আজীবন বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতে গরুর মাংস রান্নার অভিযোগে ৩ মুসলিম নারী গ্রেপ্তার, ফরেনসিক প্রতিবেদন আসেনি

মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় নিঃস্ব হওয়া সেই ইমাম এখন মানসিক হাসপাতালে

আপডেট সময় : ০৮:৪৮:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

ফেনীর আলোচিত ইমাম মাওলানা মুজাফফর আহমদ জুবায়ের, যিনি একটি মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় জড়িয়ে দীর্ঘ সময় কারাভোগ করেছিলেন, তিনি এখন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ডিএনএ পরীক্ষায় নির্দোষ প্রমাণিত হলেও দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই, সামাজিক অবমাননা এবং আর্থিক ক্ষতির মানসিক আঘাত সইতে না পেরে তিনি এই অবস্থায় পৌঁছেছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কারাগারে থাকাকালীন চরম হতাশায় তিনি আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন। সম্প্রতি ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে অবস্থানকালে তিনি হঠাৎ উগ্র আচরণ শুরু করেন এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে আদাবরের একটি বিশেষায়িত মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

২০১৯ সালে ফেনীর পরশুরামে দায়ের করা একটি মামলায় ২০২৪ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ৩২ দিন জেল খাটার পর ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওই ঘটনার সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তবে এই সময়ের মধ্যে তিনি তার মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারান। মামলার খরচ চালাতে গিয়ে তাকে বিক্রি করতে হয়েছে পৈতৃক সম্পত্তিও।

অসুস্থ হওয়ার কিছুদিন আগে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আক্ষেপ করে বলেছিলেন, বিনা নোটিশে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং সামাজিকভাবে তাকে একঘরে করে দেওয়া হয়েছে। তিনি তার হারানো চাকরি ফিরে পাওয়া, বকেয়া বেতন এবং মিথ্যা মামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিলেন। বর্তমানে তার এই সংকটের দিনে বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সাইদুল আশরাফ কুশল তাকে আজীবন বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।