ঢাকা ০৪:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

বিশ্বজুড়ে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: বাংলাদেশেও বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

এক সময়ের প্রায় নির্মূল হয়ে যাওয়া সংক্রামক ব্যাধি হাম আবারও বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ স্বাস্থ্যসংকট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ২০২৫ সাল থেকে শুরু হওয়া এই রোগের বিস্তার ২০২৬ সালেও অব্যাহত রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালে বিশ্বে প্রায় ১ কোটি ৩ লাখ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন, যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১০ লাখে। এর মধ্যে প্রায় ৯৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের বড় একটি অংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারত, পাকিস্তান, ইয়েমেন, মেক্সিকোসহ ১০টি দেশে সংক্রমণের হার ছিল সর্বোচ্চ। এমনকি ২০০০ সালে হামমুক্ত ঘোষিত যুক্তরাষ্ট্রেও নতুন করে ৩১টি অঙ্গরাজ্যে প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ইউরোপের ৫৩টি দেশেও আক্রান্তের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে। মূলত টিকা না নেওয়া ব্যক্তিদের মাধ্যমেই এই সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

বাংলাদেশেও হামের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে দেশে হামের প্রকোপ শুরু হয়। গত ১০ মে পর্যন্ত দেশজুড়ে ৩৫০ জনেরও বেশি শিশু হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে শিথিলতা এবং কোভিড মহামারি পরবর্তী সময়ে শিশুদের সঠিক সময়ে ভ্যাকসিন দিতে না পারাই এই সংকটের অন্যতম কারণ। এছাড়া আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের মাধ্যমেও এই ভাইরাস এক দেশ থেকে অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্র সংস্কারের রোডম্যাপ প্রণয়নের দাবিতে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)

বিশ্বজুড়ে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: বাংলাদেশেও বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

আপডেট সময় : ১১:৪৩:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

এক সময়ের প্রায় নির্মূল হয়ে যাওয়া সংক্রামক ব্যাধি হাম আবারও বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ স্বাস্থ্যসংকট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ২০২৫ সাল থেকে শুরু হওয়া এই রোগের বিস্তার ২০২৬ সালেও অব্যাহত রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালে বিশ্বে প্রায় ১ কোটি ৩ লাখ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন, যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১০ লাখে। এর মধ্যে প্রায় ৯৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের বড় একটি অংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারত, পাকিস্তান, ইয়েমেন, মেক্সিকোসহ ১০টি দেশে সংক্রমণের হার ছিল সর্বোচ্চ। এমনকি ২০০০ সালে হামমুক্ত ঘোষিত যুক্তরাষ্ট্রেও নতুন করে ৩১টি অঙ্গরাজ্যে প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ইউরোপের ৫৩টি দেশেও আক্রান্তের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে। মূলত টিকা না নেওয়া ব্যক্তিদের মাধ্যমেই এই সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

বাংলাদেশেও হামের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে দেশে হামের প্রকোপ শুরু হয়। গত ১০ মে পর্যন্ত দেশজুড়ে ৩৫০ জনেরও বেশি শিশু হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে শিথিলতা এবং কোভিড মহামারি পরবর্তী সময়ে শিশুদের সঠিক সময়ে ভ্যাকসিন দিতে না পারাই এই সংকটের অন্যতম কারণ। এছাড়া আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের মাধ্যমেও এই ভাইরাস এক দেশ থেকে অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।