বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি তুমরাও ম্রো নামের মাত্র এক বছর বয়সী আরও এক শিশুর হামের উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। এ নিয়ে গত কয়েক দিনে উপজেলায় হামের উপসর্গে মোট পাঁচ শিশুর প্রাণহানি ঘটলো।
নিহত তুমরাও ম্রো কুরুকপাতা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেনরুওয়া পাড়ার মেনথক ম্রো-র সন্তান। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শিশুটিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বুধবার আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছিল। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ মে পর্যন্ত এই উপজেলায় সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০৪ জনে। এর মধ্যে ২৫৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। বর্তমানে ৭৪ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং ১৭৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এছাড়া জরুরি ও বহির্বিভাগ থেকে অর্ধশতাধিক শিশু চিকিৎসা নিয়েছে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ৬ জনকে বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দুর্গম কুরুকপাতা ও পোয়ামুহুরী এলাকায় হামের বিস্তার রোধে স্বাস্থ্য বিভাগ দুটি অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করেছে। এসব ক্যাম্প থেকে এখন পর্যন্ত ৪১০ জন শিশুকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনতে স্বাস্থ্যকর্মীরা ঘরে ঘরে গিয়ে টিকাদান ও প্রাথমিক চিকিৎসার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, দুর্গমতার কারণে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ায় এই প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ টিকাদান ও পুষ্টি কার্যক্রম জোরদার করা না গেলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























