ঢাকা ০১:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

শাপলা চত্বর গণহত্যার পরিকল্পনায় বাবু-রূপার জড়িত থাকার অভিযোগ: চিফ প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ২০১৩ সালে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনার সঙ্গে একাত্তর মিডিয়া লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা জড়িত ছিলেন। বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শাপলা চত্বরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটবে, তা বাবু ও রুপা পূর্ব থেকেই জানতেন। তাদের ‘সমীকরণ’ নামক একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে তথ্য গোপন করে বলা হয়েছিল, কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং কেউ আহতও হয়নি। অথচ, আমরা ঘটনাস্থলে ৩২ জন শহীদের পরিচয় শনাক্ত করতে পেরেছি।

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে আমিনুল ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, অপরাধ করার ক্ষেত্রে কোনো পেশা, যেমন সাংবাদিক, আইনজীবী বা ডাক্তার—এগুলো বিবেচ্য নয়। আমরা কেবল অপরাধের বিচার করি। তিনি প্রশ্ন রাখেন, যদি কেউ হলুদ সাংবাদিকতা করে মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকেন, তবে তার বিচার করা হবে না কেন?

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে, কীভাবে একজন সাংবাদিক সারারাত ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন, এমন বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, তখন ইসলামিক টিভি ও দিগন্ত টিভি বন্ধ করে দেওয়া হলেও তাদের লাইভ অনুষ্ঠান চলছিল এবং তারা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা গোপন করছিলেন। একজন সাংবাদিক হিসেবে নিরপেক্ষভাবে সত্য ঘটনা তুলে ধরার পরিবর্তে তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল? তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন যে তারা এই ‘টোটাল মেকানিজমের’ সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রাজিলের রেকর্ড সমৃদ্ধি ও মরক্কোর ঐতিহাসিক অর্জন: মেটলাইফে ভিনি-হাকিমিদের যত কীর্তি

শাপলা চত্বর গণহত্যার পরিকল্পনায় বাবু-রূপার জড়িত থাকার অভিযোগ: চিফ প্রসিকিউটর

আপডেট সময় : ০৬:২৫:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ২০১৩ সালে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনার সঙ্গে একাত্তর মিডিয়া লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা জড়িত ছিলেন। বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শাপলা চত্বরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটবে, তা বাবু ও রুপা পূর্ব থেকেই জানতেন। তাদের ‘সমীকরণ’ নামক একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে তথ্য গোপন করে বলা হয়েছিল, কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং কেউ আহতও হয়নি। অথচ, আমরা ঘটনাস্থলে ৩২ জন শহীদের পরিচয় শনাক্ত করতে পেরেছি।

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে আমিনুল ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, অপরাধ করার ক্ষেত্রে কোনো পেশা, যেমন সাংবাদিক, আইনজীবী বা ডাক্তার—এগুলো বিবেচ্য নয়। আমরা কেবল অপরাধের বিচার করি। তিনি প্রশ্ন রাখেন, যদি কেউ হলুদ সাংবাদিকতা করে মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকেন, তবে তার বিচার করা হবে না কেন?

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে, কীভাবে একজন সাংবাদিক সারারাত ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন, এমন বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, তখন ইসলামিক টিভি ও দিগন্ত টিভি বন্ধ করে দেওয়া হলেও তাদের লাইভ অনুষ্ঠান চলছিল এবং তারা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা গোপন করছিলেন। একজন সাংবাদিক হিসেবে নিরপেক্ষভাবে সত্য ঘটনা তুলে ধরার পরিবর্তে তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল? তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন যে তারা এই ‘টোটাল মেকানিজমের’ সঙ্গে জড়িত ছিলেন।