ঢাকার রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় বিজিবি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চার আসামির বিরুদ্ধে পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন স্কুল শিক্ষার্থী শহীদ আশিকুল ইসলামের মা আরিশা আফরোজ। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তিনি এই জবানবন্দি প্রদান করেন।
আরিশা আফরোজ জানান, তার ছেলে আশিকুল ইসলাম বনশ্রী নিবরাশ মাদ্রাসার নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল এবং ঘটনার দিন জুম্মার নামাজ শেষে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগ দিতে যায়। গোলাগুলির এক পর্যায়ে তার ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়। তিনি বলেন, ‘আমি দেখি আমার ছেলেসহ আন্দোলনকারীরা দৌড়ে ২ নাম্বার রোডের দিকে চলে যায়। হঠাৎ করে গোলাগুলি শুরু হলে, আমার ছেলেসহ আন্দোলনকারীরা দৌড়ে ২ নাম্বার রোডের দিকে চলে যায়। আমি কয়েকজনের গায়ে গুলি লাগতে দেখি। কারো হাতে, কারো পায়ে, কারো মাথায় গুলি লেগেছে। তাদের ক্ষতস্থানে কাপড় দিয়ে বেঁধে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। এরপর অনেক গোলাগুলি হয় এবং অনেক মানুষকে পাখির মতো মারা হয়। অনেক লাশ পড়ে থাকতে দেখি।’
রাত পর্যন্ত ছেলের খোঁজ না পেয়ে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে একটি ছবি দেখে তিনি তার ছেলেকে চিনতে পারেন। ছবিতে ছেলের মাথায় ব্যান্ডেজ ছিল এবং চোখ বন্ধ ছিল। এই দৃশ্য দেখে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। আনুমানিক রাত ১২টার দিকে এ্যাডভান্স হাসপাতালে গিয়ে তিনি জানতে পারেন যে তার ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। তিনি দেখেন, তার ছেলের ডান কানের দিক দিয়ে গুলি ঢুকে বাম কানের দিক দিয়ে বেরিয়ে গেছে। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন যে, এই ঘটনার সঙ্গে কর্নেল রেদোয়ান জড়িত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 























