ঢাকা ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

শিশুমৃত্যু ও জনস্বাস্থ্য: রাজনৈতিক বিতর্কের আড়ালে উপেক্ষিত বাস্তবতা

সম্প্রতি শিশুদের হাম রোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে আলোচনা ও বিতর্ক চলছে, তা জনস্বাস্থ্য বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। তবে, এই বিতর্ক অনেক সময় মূল সমস্যা থেকে দৃষ্টি সরিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন অনেকে। একটি পক্ষ হামের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমান পরিস্থিতিকে খাটো করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়ার মতো রোগেও বাংলাদেশে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশুর মৃত্যু হয়। একটি গবেষণা অনুযায়ী, পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ২৪ হাজার শিশু প্রতি বছর নিউমোনিয়ায় মারা যায়, যা প্রতি ঘণ্টায় দুই থেকে তিনজনের সমান। এই পরিসংখ্যান ২০২২ সালের, যা ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) বিজ্ঞানীদের উদ্ধৃত করে প্রকাশিত হয়।

বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলছেন, জনস্বাস্থ্য খাতের এই ধরনের বড় চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে কেন রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘমেয়াদি ও গঠনমূলক আলোচনা হয় না? গত দেড় দশকে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে অবকাঠামোগত কিছু কাজ হলেও, জেলা পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ কার্ডিওলজি বা নিউরোলজি বিভাগ কেন গড়ে ওঠেনি, কেন হার্টের রিং পরানোর জন্য রাজধানীকেন্দ্রিক হতে হয়, কিংবা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোয় শিশুদের জরুরি চিকিৎসায় ইনকিউবেটরের মতো অত্যাবশ্যকীয় সরঞ্জামের অভাব কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

অতীতে বিভিন্ন সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলেও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার আমূল সংস্কারে কতটা সফল হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের মতে, শিশুদের নিউমোনিয়া বা অন্যান্য রোগে হাজার হাজার মৃত্যুর ঘটনাকে ‘হত্যা’ হিসেবে বিবেচনা করে এর বিরুদ্ধে আইনি বা রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে নীরবতা পালন করা হয়। অথচ, যখন কোনো নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যাকে রাজনৈতিক বিতর্কের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তখন সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো আড়ালেই থেকে যায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাবিতে ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার প্রতিবাদে উত্তাল ক্যাম্পাস: প্রক্টরের পদত্যাগ দাবিতে আলটিমেটাম

শিশুমৃত্যু ও জনস্বাস্থ্য: রাজনৈতিক বিতর্কের আড়ালে উপেক্ষিত বাস্তবতা

আপডেট সময় : ০২:০৩:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

সম্প্রতি শিশুদের হাম রোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে আলোচনা ও বিতর্ক চলছে, তা জনস্বাস্থ্য বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। তবে, এই বিতর্ক অনেক সময় মূল সমস্যা থেকে দৃষ্টি সরিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন অনেকে। একটি পক্ষ হামের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমান পরিস্থিতিকে খাটো করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়ার মতো রোগেও বাংলাদেশে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশুর মৃত্যু হয়। একটি গবেষণা অনুযায়ী, পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ২৪ হাজার শিশু প্রতি বছর নিউমোনিয়ায় মারা যায়, যা প্রতি ঘণ্টায় দুই থেকে তিনজনের সমান। এই পরিসংখ্যান ২০২২ সালের, যা ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) বিজ্ঞানীদের উদ্ধৃত করে প্রকাশিত হয়।

বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলছেন, জনস্বাস্থ্য খাতের এই ধরনের বড় চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে কেন রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘমেয়াদি ও গঠনমূলক আলোচনা হয় না? গত দেড় দশকে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে অবকাঠামোগত কিছু কাজ হলেও, জেলা পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ কার্ডিওলজি বা নিউরোলজি বিভাগ কেন গড়ে ওঠেনি, কেন হার্টের রিং পরানোর জন্য রাজধানীকেন্দ্রিক হতে হয়, কিংবা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোয় শিশুদের জরুরি চিকিৎসায় ইনকিউবেটরের মতো অত্যাবশ্যকীয় সরঞ্জামের অভাব কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

অতীতে বিভিন্ন সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলেও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার আমূল সংস্কারে কতটা সফল হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের মতে, শিশুদের নিউমোনিয়া বা অন্যান্য রোগে হাজার হাজার মৃত্যুর ঘটনাকে ‘হত্যা’ হিসেবে বিবেচনা করে এর বিরুদ্ধে আইনি বা রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে নীরবতা পালন করা হয়। অথচ, যখন কোনো নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যাকে রাজনৈতিক বিতর্কের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তখন সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো আড়ালেই থেকে যায়।