দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে অংশীজনরা পরবর্তী এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারিতে এবং এইচএসসি পরীক্ষা জুনে নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। এই বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে শীঘ্রই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানা গেছে।
পূর্বে ২০২৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু এই আকস্মিক সময়সূচী পরিবর্তনের ফলে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এই উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং একটি সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অধিকাংশ অংশীজন ডিসেম্বরে পাবলিক পরীক্ষা দুটি না নেওয়ার পক্ষে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে দেশের বিভিন্ন জেলার অভিভাবক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানরা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন। তাদের মতে, হঠাৎ করে পরীক্ষার সময় চার মাস এগিয়ে আনা হলে শিক্ষার্থীদের উপর চরম মানসিক চাপ সৃষ্টি হবে। তাই বেশিরভাগের পরামর্শ হলো, এসএসসি পরীক্ষা আগামী বছরের জানুয়ারিতে এবং এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিল বা জুনে নেওয়া যেতে পারে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, আজকের বৈঠকে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সীমা নিয়ে অংশীজনদের বক্তব্য শোনা হয়েছে এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে।
পরবর্তীতে একটি অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন সাংবাদিকদের জানান যে, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা রোজার আগে এসএসসি পরীক্ষা শেষ করার জন্য অনুরোধ করেছেন এবং তারা জানুয়ারির শেষদিকে এই পরীক্ষা শুরু করতে বলেছেন। এইচএসসির বিষয়ে কেউ জুনে আবার কেউ এপ্রিলে পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলেছেন। তবে সম্ভবত জুনেই এই পরীক্ষা হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন যে, তাদের লক্ষ্য হলো একাডেমিক ক্যালেন্ডার ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করা। কিন্তু এই লক্ষ্য হঠাৎ করে পূরণ করা সম্ভব নয়। এর জন্য সিলেবাস ও কারিকুলাম শেষ করা এবং বিগত দিনের শিক্ষাব্যবস্থার অব্যবস্থাপনাগুলো সমাধান করা প্রয়োজন। এই সব বিষয়গুলোই ধীরে ধীরে সমন্বয় করা হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ছয় বছর বয়সে ওয়ান-এ ভর্তি হওয়ার পর ১৬ বছর বয়সে এসএসসি এবং ১৮ বছর বয়সে ইন্টারমিডিয়েট শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















