ঢাকা ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬

সৌদি-আমিরাত বিরোধ: ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান সংকট

সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যেকার বিরোধ কেবল বর্তমানের নয়, এর শিকড় প্রোথিত রয়েছে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে। প্রয়াত সাংবাদিক ডেভিড হোল্ডেন তার ১৯৬৬ সালের বিখ্যাত বই ‘ফেয়ারওয়েল টু অ্যারাবিয়া’তে গত শতকের পঞ্চাশের দশকের কিংবদন্তি ‘বুরাইমি বিরোধ’-এর কথা তুলে ধরেছিলেন। সেই সময় সৌদি রাজপরিবার, ওমান ও তৎকালীন ট্রুসিয়াল স্টেটসের (যা পরে সংযুক্ত আরব আমিরাত হয়) মধ্যে একটি মরূদ্যানের দখল নিয়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছিল। ধারণা করা হয়েছিল, সেখানে বিপুল তেলের মজুত রয়েছে।

হোল্ডেনের বর্ণনা অনুযায়ী, সৌদিরা সেই সময় জায়েদ বিন সুলতান আল-নাহিয়ানকে, যিনি তখন ‘বুরাইমির অধিপতি’ এবং পরবর্তীতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত, তাকে ঘুস দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তিনি নিজের পরিবারের সঙ্গে বেইমানি করতে রাজি হননি এবং সৌদির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর সৌদি আরব সেই এলাকা দখল করতে আক্রমণ চালিয়েও ব্যর্থ হয়। আজ তার ছেলে, বর্তমান প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ (এমবিজেড) সৌদি রাজপরিবারের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) সঙ্গে এক তিক্ত লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েছেন।

সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ও রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিক থেরোস বলেন, ‘আপনি যদি আদর্শ, পরিবার আর ইতিহাসকে এক সুতায় গাঁথেন, তবেই সৌদি-আমিরাত বিরোধের আসল কারণটা বুঝতে পারবেন।’ বর্তমানে লিবিয়ার মরুভূমি থেকে শুরু করে বিশ্ব জ্বালানি বাজার—সব জায়গাতেই সৌদি আরব আর সংযুক্ত আরব আমিরাত একে অপরের মুখোমুখি। কূটনীতিক, ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই দেশের রেষারেষিই মূলত মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। বিশেষ করে ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যখন ওই অঞ্চলে আমেরিকার প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তখন এই বিভেদ আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি তেলের দামের মাধ্যমে এশিয়া, ইউরোপ বা আমেরিকার সাধারণ মানুষের পকেটেও এর প্রভাব পড়বে। চলতি মাসেই সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ‘ওপেক’ ছেড়ে দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আবুধাবি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা এখন থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল বাড়তি তেল তুলবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে সৌদি আরবের সঙ্গে আমিরাতের এক ভয়াবহ বাজার দখলের লড়াই বা ‘প্রাইস ওয়ার’ শুরু হতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খামেনির জানাজা নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যে ইরানের তীব্র প্রতিক্রিয়া: ‘নেই সভ্যতা, নেই সম্মান’

সৌদি-আমিরাত বিরোধ: ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান সংকট

আপডেট সময় : ০২:০২:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যেকার বিরোধ কেবল বর্তমানের নয়, এর শিকড় প্রোথিত রয়েছে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে। প্রয়াত সাংবাদিক ডেভিড হোল্ডেন তার ১৯৬৬ সালের বিখ্যাত বই ‘ফেয়ারওয়েল টু অ্যারাবিয়া’তে গত শতকের পঞ্চাশের দশকের কিংবদন্তি ‘বুরাইমি বিরোধ’-এর কথা তুলে ধরেছিলেন। সেই সময় সৌদি রাজপরিবার, ওমান ও তৎকালীন ট্রুসিয়াল স্টেটসের (যা পরে সংযুক্ত আরব আমিরাত হয়) মধ্যে একটি মরূদ্যানের দখল নিয়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছিল। ধারণা করা হয়েছিল, সেখানে বিপুল তেলের মজুত রয়েছে।

হোল্ডেনের বর্ণনা অনুযায়ী, সৌদিরা সেই সময় জায়েদ বিন সুলতান আল-নাহিয়ানকে, যিনি তখন ‘বুরাইমির অধিপতি’ এবং পরবর্তীতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত, তাকে ঘুস দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তিনি নিজের পরিবারের সঙ্গে বেইমানি করতে রাজি হননি এবং সৌদির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর সৌদি আরব সেই এলাকা দখল করতে আক্রমণ চালিয়েও ব্যর্থ হয়। আজ তার ছেলে, বর্তমান প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ (এমবিজেড) সৌদি রাজপরিবারের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) সঙ্গে এক তিক্ত লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েছেন।

সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ও রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিক থেরোস বলেন, ‘আপনি যদি আদর্শ, পরিবার আর ইতিহাসকে এক সুতায় গাঁথেন, তবেই সৌদি-আমিরাত বিরোধের আসল কারণটা বুঝতে পারবেন।’ বর্তমানে লিবিয়ার মরুভূমি থেকে শুরু করে বিশ্ব জ্বালানি বাজার—সব জায়গাতেই সৌদি আরব আর সংযুক্ত আরব আমিরাত একে অপরের মুখোমুখি। কূটনীতিক, ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই দেশের রেষারেষিই মূলত মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। বিশেষ করে ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যখন ওই অঞ্চলে আমেরিকার প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তখন এই বিভেদ আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি তেলের দামের মাধ্যমে এশিয়া, ইউরোপ বা আমেরিকার সাধারণ মানুষের পকেটেও এর প্রভাব পড়বে। চলতি মাসেই সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ‘ওপেক’ ছেড়ে দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আবুধাবি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা এখন থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল বাড়তি তেল তুলবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে সৌদি আরবের সঙ্গে আমিরাতের এক ভয়াবহ বাজার দখলের লড়াই বা ‘প্রাইস ওয়ার’ শুরু হতে পারে।