ঢাকা ০২:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

ফেনীতে ৯ কোটি টাকার সেতু নির্মাণ হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের আশ্রাফপুর-মোমারিজপুর সংযোগ সেতু নির্মাণের ১৫ মাস পেরিয়ে গেলেও যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুটি এখন এলাকাবাসীর জন্য এক মূর্তিমান ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছোট ফেনী নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ করে। টেন্ডারের মাধ্যমে মেসার্স ছালেহ আহম্মদ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতু নির্মাণকাজ পায়। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সেতুর ৭০ শতাংশ নির্মাণকাজ শেষ হয়। ৬০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হলেও এর দুই পাশে কোনো সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি।

সেতুর এক পাশে ফসলি জমি এবং অন্য পাশে বসতঘর থাকায় সড়ক নির্মাণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আট ফুট উঁচুতে নির্মিত হওয়ায় সেতুটি যান চলাচলের জন্য একেবারেই অনুপযোগী। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপারের জন্য এলাকাবাসী কাঠ-বাঁশের মইয়ের ওপর নির্ভর করছেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, সেতুর একপাশে কৃষিজমি ও অন্যপাশে ঘরবাড়ি থাকায় সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা যাচ্ছে না। এছাড়া প্রায় ১০ ফুট উচ্চতার কারণে সেতুর সড়ক সংযোগ করা বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, দাঁড়িয়ে থাকা সেতুর দুই পাশে কাঠ ও বাঁশের মই দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। যার কারণে নিয়মিত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন অনেকেই। স্থানীয় কৃষক কবির আহমদ বলেন, ‘সেতু নির্মাণ হওয়ার খবরে আমরা অনেক খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও এর দুই পাশে রাস্তা নির্মাণ হয়নি। এতে সেতু আমাদের কোনো কাজেই আসছে না। কাঠ-বাঁশের মই বেয়ে চলাচলের সময় অনেক দুর্ঘটনা ঘটে।’ তিনি দ্রুত সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ এবং যান চলাচলের উপযোগী করে তোলার দাবি জানান। মাতুভূঞা ইউনিয়নের সাবেক সদস্য হারিছ আহমদ পেয়ার বলেন, ‘বর্ষার আগে দুই পাশের রাস্তা নির্মাণ না হলে, মাতুভূঞা ও বেকের বাজারগামী লোকজন ব্যাপক অসুবিধার সম্মুখীন হবেন।’ তিনি আরো জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু নির্বাচনের সময় সেতুটি পরিদর্শন করে গেলেও এখনো কাজের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে মন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

দাগনভূঞা উপজেলা প্রকৌশলী মাছুম বিল্লাহ বলেন, ‘পর্যাপ্ত জায়গা না থাকার কারণে সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা যায়নি। জায়গার মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে রাস্তা নির্মাণের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া ব্রিজ নির্মাণের সময় শেষ হয়ে গেছে। এখন নতুন ক’ – এই বাক্যটি অসম্পূর্ণ হওয়ায় বিস্তারিত তথ্য দেওয়া সম্ভব হয়নি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জার্মানিতে জনসংখ্যা কমে যাওয়ায় বাড়ছে রাজনৈতিক বিভাজন

ফেনীতে ৯ কোটি টাকার সেতু নির্মাণ হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

আপডেট সময় : ০১:৪৭:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের আশ্রাফপুর-মোমারিজপুর সংযোগ সেতু নির্মাণের ১৫ মাস পেরিয়ে গেলেও যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুটি এখন এলাকাবাসীর জন্য এক মূর্তিমান ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছোট ফেনী নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ করে। টেন্ডারের মাধ্যমে মেসার্স ছালেহ আহম্মদ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতু নির্মাণকাজ পায়। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সেতুর ৭০ শতাংশ নির্মাণকাজ শেষ হয়। ৬০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হলেও এর দুই পাশে কোনো সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি।

সেতুর এক পাশে ফসলি জমি এবং অন্য পাশে বসতঘর থাকায় সড়ক নির্মাণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আট ফুট উঁচুতে নির্মিত হওয়ায় সেতুটি যান চলাচলের জন্য একেবারেই অনুপযোগী। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপারের জন্য এলাকাবাসী কাঠ-বাঁশের মইয়ের ওপর নির্ভর করছেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, সেতুর একপাশে কৃষিজমি ও অন্যপাশে ঘরবাড়ি থাকায় সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা যাচ্ছে না। এছাড়া প্রায় ১০ ফুট উচ্চতার কারণে সেতুর সড়ক সংযোগ করা বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, দাঁড়িয়ে থাকা সেতুর দুই পাশে কাঠ ও বাঁশের মই দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। যার কারণে নিয়মিত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন অনেকেই। স্থানীয় কৃষক কবির আহমদ বলেন, ‘সেতু নির্মাণ হওয়ার খবরে আমরা অনেক খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও এর দুই পাশে রাস্তা নির্মাণ হয়নি। এতে সেতু আমাদের কোনো কাজেই আসছে না। কাঠ-বাঁশের মই বেয়ে চলাচলের সময় অনেক দুর্ঘটনা ঘটে।’ তিনি দ্রুত সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ এবং যান চলাচলের উপযোগী করে তোলার দাবি জানান। মাতুভূঞা ইউনিয়নের সাবেক সদস্য হারিছ আহমদ পেয়ার বলেন, ‘বর্ষার আগে দুই পাশের রাস্তা নির্মাণ না হলে, মাতুভূঞা ও বেকের বাজারগামী লোকজন ব্যাপক অসুবিধার সম্মুখীন হবেন।’ তিনি আরো জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু নির্বাচনের সময় সেতুটি পরিদর্শন করে গেলেও এখনো কাজের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে মন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

দাগনভূঞা উপজেলা প্রকৌশলী মাছুম বিল্লাহ বলেন, ‘পর্যাপ্ত জায়গা না থাকার কারণে সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা যায়নি। জায়গার মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে রাস্তা নির্মাণের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া ব্রিজ নির্মাণের সময় শেষ হয়ে গেছে। এখন নতুন ক’ – এই বাক্যটি অসম্পূর্ণ হওয়ায় বিস্তারিত তথ্য দেওয়া সম্ভব হয়নি।