মালয়েশিয়ার পশ্চিম উপকূলীয় পাংকর দ্বীপের কাছে ৩৭ জন অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১৪ জন। নিখোঁজদের সন্ধানে সমুদ্র ও আকাশপথে বিশাল উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে দেশটির সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার বিবরণ
মালয়েশিয়ান মেরিটাইম এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি (এমএমইএ) জানিয়েছে, সোমবার ভোরে এক স্থানীয় জেলে সমুদ্রের বুকে কয়েকজনকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। এরপরই মেরিটাইম এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। পেরাক অঙ্গরাজ্যের এমএমইএ পরিচালক মোহাম্মদ শুকরি কুতুব এক বিবৃতিতে জানান, নৌকাটিতে থাকা সবাই অনথিভুক্ত অভিবাসী ছিলেন।
যাত্রার পথ ও গন্তব্য
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিবাসীরা গত ৯ মে ইন্দোনেশিয়ার কিসারান এলাকা থেকে একটি নৌকায় চড়ে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। তাদের গন্তব্য ছিল মালয়েশিয়ার পেনাং, তেরেঙ্গানু, সেলাঙ্গর এবং কুয়ালালামপুরের মতো অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলো। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী তদন্তের জন্য পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উদ্ধার অভিযান ও ঝুঁকি
নিখোঁজ ১৪ জনের সন্ধানে এমএমইএ বর্তমানে নৌযান, হেলিকপ্টার এবং নজরদারি বিমান ব্যবহার করে তল্লাশি চালাচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম সমৃদ্ধ দেশ মালয়েশিয়ায় প্রতি বছরই উন্নত জীবনের আশায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ অবৈধ পথে পাড়ি জমান। মানবপাচার চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত এই সমুদ্রযাত্রাগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রায়ই এমন প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে থাই-মালয়েশিয়া সীমান্তে একটি বড় ধরনের নৌকা ডুবির ঘটনায় ৩৬ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছিল। সাম্প্রতিক এই দুর্ঘটনাটি আবারও অবৈধ সমুদ্রপথের ভয়াবহতাকে সামনে নিয়ে এলো।
রিপোর্টারের নাম 





















