ঢাকা ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি: ভারতীয় রুপির রেকর্ড দরপতন

টানা দরপতনে দিশেহারা ভারতীয় রুপি ডলারের বিপরীতে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বগতি এবং বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহারের চাপে ভারতীয় রুপির মান কমে ৯৫ দশমিক ৬৯ স্পর্শ করেছে, যা ৯৬-এর মনস্তাত্ত্বিক সীমার খুব কাছাকাছি। দিনের শুরুতেই দুর্বল অবস্থানে ছিল রুপি, প্রাথমিক লেনদেনে এক ডলারের বিপরীতে রুপির দর নেমে যায় ৯৫ দশমিক ৬২-এ।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দেশীয় মুদ্রার পতন ঠেকাতে ভারতীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (আরবিআই) বাজারে হস্তক্ষেপ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে রুপি ৯৫ দশমিক ৫০-এর কাছাকাছি লেনদেন হয়। বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত রুপির মান ৫ শতাংশের বেশি কমেছে, যা এটিকে এশিয়ার সবচেয়ে অস্থির মুদ্রাগুলোর একটিতে পরিণত করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা বাজারে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা ভারতের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে, কারণ দেশটি তার ৮০ শতাংশের বেশি জ্বালানি চাহিদা মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে।

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামও রুপির ওপর চাপ বাড়িয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম ছিল প্রায় ৯৯ ডলার। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে ওই অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়ায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও জোরালো হয়েছে।

সম্প্রতি, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জনগণকে জ্বালানি ব্যবহার কমানো, আমদানি হ্রাস এবং স্বর্ণ কেনা সীমিত করার আহ্বান জানান। বাজার এটিকে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি ও পরিশোধ ভারসাম্যের ওপর বাড়তি চাপের ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোদির বক্তব্যকে এমন ইঙ্গিত হিসেবে নেওয়া হয়েছে যে, তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ অবস্থায় থাকলে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি আরও বাড়তে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তেহরানে আয়তুল্লাহ খামেনির শেষ বিদায়ে শোকার্ত মানুষের জনসমুদ্র

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি: ভারতীয় রুপির রেকর্ড দরপতন

আপডেট সময় : ০৩:৫৯:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

টানা দরপতনে দিশেহারা ভারতীয় রুপি ডলারের বিপরীতে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বগতি এবং বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহারের চাপে ভারতীয় রুপির মান কমে ৯৫ দশমিক ৬৯ স্পর্শ করেছে, যা ৯৬-এর মনস্তাত্ত্বিক সীমার খুব কাছাকাছি। দিনের শুরুতেই দুর্বল অবস্থানে ছিল রুপি, প্রাথমিক লেনদেনে এক ডলারের বিপরীতে রুপির দর নেমে যায় ৯৫ দশমিক ৬২-এ।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দেশীয় মুদ্রার পতন ঠেকাতে ভারতীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (আরবিআই) বাজারে হস্তক্ষেপ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে রুপি ৯৫ দশমিক ৫০-এর কাছাকাছি লেনদেন হয়। বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত রুপির মান ৫ শতাংশের বেশি কমেছে, যা এটিকে এশিয়ার সবচেয়ে অস্থির মুদ্রাগুলোর একটিতে পরিণত করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা বাজারে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা ভারতের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে, কারণ দেশটি তার ৮০ শতাংশের বেশি জ্বালানি চাহিদা মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে।

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামও রুপির ওপর চাপ বাড়িয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম ছিল প্রায় ৯৯ ডলার। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে ওই অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়ায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও জোরালো হয়েছে।

সম্প্রতি, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জনগণকে জ্বালানি ব্যবহার কমানো, আমদানি হ্রাস এবং স্বর্ণ কেনা সীমিত করার আহ্বান জানান। বাজার এটিকে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি ও পরিশোধ ভারসাম্যের ওপর বাড়তি চাপের ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোদির বক্তব্যকে এমন ইঙ্গিত হিসেবে নেওয়া হয়েছে যে, তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ অবস্থায় থাকলে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি আরও বাড়তে পারে।