ঢাকা ০১:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

কোরবানির পশুর হাট ঘিরে আধিপত্যের লড়াই, খুন হলেন শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পশুর হাট বসতে চলেছে। আর এই হাটকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি, দখল ও আধিপত্য বিস্তারের পুরোনো অপরাধচক্র আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, পশুর হাট কেবল কোরবানির পশু কেনাবেচার স্থান নয়, বরং এটি কোটি কোটি টাকার নগদ লেনদেনের নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্র। এই আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ছে আন্ডারওয়ার্ল্ডের বিভিন্ন গোষ্ঠী।

সম্প্রতি রাজধানীতে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ ওরফে টিটন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা পুরোনো অপরাধ জগতের ক্ষমতার লড়াইকে নতুন করে সামনে এনেছে। গত ২৮ এপ্রিল রাতে নিউমার্কেট এলাকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসসংলগ্ন বটতলায় টিটনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই হত্যাকাণ্ডটি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে अंजाम দেওয়া হয়েছে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, মোটরসাইকেলে করে দুই হামলাকারী ঘটনাস্থলে এসে টিটনকে গুলি করে এবং দ্রুত পালিয়ে যায়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, হামলাকারীদের মুখে মাস্ক ছিল এবং তাদের একজন শ্যুটারে মাথায় ক্যাপ ও পরনে সাদা শার্ট ছিল। তদন্তকারীদের ধারণা, টিটনকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওই এলাকায় ডেকে নিয়ে আসা হয়েছিল এবং এই ঘটনার সঙ্গে তার কোনো ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে পুলিশ এখনো হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি।

টিটনের পরিবার দাবি করেছে, মোহাম্মদপুরের বছিলা এলাকায় আসন্ন কোরবানির পশুর হাটের ইজারা ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। টিটনের বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন অভিযোগ করেছেন যে, শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমামুল হাসান ওরফে পিচ্চি হেলাল রাজধানীর মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি ও নিউমার্কেট এলাকায় নিজের আধিপত্য ধরে রাখতে এবং কোরবানির হাট নিয়ন্ত্রণে রাখতে টিটনকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি আরও জানান, মৃত্যুর প্রায় দেড় মাস আগে থেকেই টিটন সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার কথা পরিবারকে জানিয়েছিলেন। তবে পিচ্চি হেলাল এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে একটি অডিও বার্তায় দাবি করেছেন যে, টিটন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে মিরাজকে রেখেই বাংলাদেশের অপরিবর্তিত দল ঘোষণা

কোরবানির পশুর হাট ঘিরে আধিপত্যের লড়াই, খুন হলেন শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন

আপডেট সময় : ১২:২২:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পশুর হাট বসতে চলেছে। আর এই হাটকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি, দখল ও আধিপত্য বিস্তারের পুরোনো অপরাধচক্র আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, পশুর হাট কেবল কোরবানির পশু কেনাবেচার স্থান নয়, বরং এটি কোটি কোটি টাকার নগদ লেনদেনের নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্র। এই আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ছে আন্ডারওয়ার্ল্ডের বিভিন্ন গোষ্ঠী।

সম্প্রতি রাজধানীতে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ ওরফে টিটন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা পুরোনো অপরাধ জগতের ক্ষমতার লড়াইকে নতুন করে সামনে এনেছে। গত ২৮ এপ্রিল রাতে নিউমার্কেট এলাকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসসংলগ্ন বটতলায় টিটনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই হত্যাকাণ্ডটি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে अंजाम দেওয়া হয়েছে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, মোটরসাইকেলে করে দুই হামলাকারী ঘটনাস্থলে এসে টিটনকে গুলি করে এবং দ্রুত পালিয়ে যায়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, হামলাকারীদের মুখে মাস্ক ছিল এবং তাদের একজন শ্যুটারে মাথায় ক্যাপ ও পরনে সাদা শার্ট ছিল। তদন্তকারীদের ধারণা, টিটনকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওই এলাকায় ডেকে নিয়ে আসা হয়েছিল এবং এই ঘটনার সঙ্গে তার কোনো ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে পুলিশ এখনো হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি।

টিটনের পরিবার দাবি করেছে, মোহাম্মদপুরের বছিলা এলাকায় আসন্ন কোরবানির পশুর হাটের ইজারা ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। টিটনের বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন অভিযোগ করেছেন যে, শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমামুল হাসান ওরফে পিচ্চি হেলাল রাজধানীর মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি ও নিউমার্কেট এলাকায় নিজের আধিপত্য ধরে রাখতে এবং কোরবানির হাট নিয়ন্ত্রণে রাখতে টিটনকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি আরও জানান, মৃত্যুর প্রায় দেড় মাস আগে থেকেই টিটন সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার কথা পরিবারকে জানিয়েছিলেন। তবে পিচ্চি হেলাল এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে একটি অডিও বার্তায় দাবি করেছেন যে, টিটন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।