ঢাকা ০৭:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

ভূমিকম্পের সময় করণীয়: জানুন এবং নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন

বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে তিনটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এখানে ভূমিকম্প একটি স্বাভাবিক ঘটনা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভূমিকম্পের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এর মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মতে, সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ভূমিকম্পের সময় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

ভূমিকম্প অনুভূত হলে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকা সবচেয়ে জরুরি। আপনি যদি ভবনের নিচতলায় থাকেন, তবে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে এসে খোলা জায়গায় আশ্রয় নিন। বহুতল ভবনে থাকলে ‘ড্রপ, কভার, হোল্ড অন’ পদ্ধতি অনুসরণ করুন। একটি শক্ত টেবিল বা ডেস্কের নিচে আশ্রয় নিন এবং খুঁটি শক্তভাবে ধরুন। সম্ভব হলে বালিশ বা কুশন দিয়ে মাথা ঢেকে রাখুন। মনে রাখবেন, ভূমিকম্প চলাকালীন লিফট ব্যবহার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

ভূমিকম্প থামার পর দ্রুত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন। ঝুঁকিপূর্ণ আসবাব, আলমারি, বুকশেলফ এবং ঝুলন্ত বস্তু থেকে দূরে থাকুন। আপনার নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী, যেমন – টর্চলাইট, হেলমেট, জরুরি ওষুধ এবং একটি বাঁশি হাতের কাছে রাখুন।

যদি আপনি বাইরে থাকেন, তবে গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি, উঁচু ভবন বা দেওয়াল থেকে দূরে খোলা জায়গায় আশ্রয় নিন। গাড়িতে থাকলে নিরাপদ স্থানে গাড়ি থামান এবং ফ্লাইওভার, ওভারব্রিজ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে থাকুন। ভূমিকম্প না থামা পর্যন্ত গাড়ির ভেতরেই থাকুন।

ভূমিকম্পের পর আফটারশক হওয়া স্বাভাবিক, তাই ক্ষতিগ্রস্ত ভবন বা দুর্বল কাঠামোর কাছাকাছি যাবেন না। সম্মিলিত সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণই পারে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে। জরুরি প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের হটলাইন নম্বর ১০২-এ যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রামগঞ্জে বিদ্যুৎ বিভাগের অবহেলার বলি গৃহবধূ: রাস্তায় পড়ে থাকা তারে প্রাণহানি

ভূমিকম্পের সময় করণীয়: জানুন এবং নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন

আপডেট সময় : ০৫:৪৯:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে তিনটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এখানে ভূমিকম্প একটি স্বাভাবিক ঘটনা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভূমিকম্পের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এর মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মতে, সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ভূমিকম্পের সময় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

ভূমিকম্প অনুভূত হলে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকা সবচেয়ে জরুরি। আপনি যদি ভবনের নিচতলায় থাকেন, তবে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে এসে খোলা জায়গায় আশ্রয় নিন। বহুতল ভবনে থাকলে ‘ড্রপ, কভার, হোল্ড অন’ পদ্ধতি অনুসরণ করুন। একটি শক্ত টেবিল বা ডেস্কের নিচে আশ্রয় নিন এবং খুঁটি শক্তভাবে ধরুন। সম্ভব হলে বালিশ বা কুশন দিয়ে মাথা ঢেকে রাখুন। মনে রাখবেন, ভূমিকম্প চলাকালীন লিফট ব্যবহার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

ভূমিকম্প থামার পর দ্রুত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন। ঝুঁকিপূর্ণ আসবাব, আলমারি, বুকশেলফ এবং ঝুলন্ত বস্তু থেকে দূরে থাকুন। আপনার নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী, যেমন – টর্চলাইট, হেলমেট, জরুরি ওষুধ এবং একটি বাঁশি হাতের কাছে রাখুন।

যদি আপনি বাইরে থাকেন, তবে গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি, উঁচু ভবন বা দেওয়াল থেকে দূরে খোলা জায়গায় আশ্রয় নিন। গাড়িতে থাকলে নিরাপদ স্থানে গাড়ি থামান এবং ফ্লাইওভার, ওভারব্রিজ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে থাকুন। ভূমিকম্প না থামা পর্যন্ত গাড়ির ভেতরেই থাকুন।

ভূমিকম্পের পর আফটারশক হওয়া স্বাভাবিক, তাই ক্ষতিগ্রস্ত ভবন বা দুর্বল কাঠামোর কাছাকাছি যাবেন না। সম্মিলিত সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণই পারে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে। জরুরি প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের হটলাইন নম্বর ১০২-এ যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।